মানহীন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ

‘ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানা’ বন্ধের হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

২৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৬ PM
‘ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানা’ বন্ধের হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

‘ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানা’ বন্ধের হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর © সংগৃহীত

‘ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানা’ আখ্যা দিয়ে মানহীন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) ছুটির দিন দুপুরে হঠাৎ সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ফাইল ওপেন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে এক ভিডিওবার্তায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিন মিনিটের ভিডিও বার্তায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত বলেন, এই ছুটির দিনে আমরা অফিসে এসেছি, যাতে ভাল করে একটু মন দিয়ে ফাইলগুলো দেখে কাজ করা যায়। আজকে এখানে যে ফাইলগুলো দেখছেন, এই ফাইলগুলো সবই বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ফাইল। এই ফাইলগুলো দেখতে গিয়ে একটা জরুরি, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নতুন করে অনুধাবন করলাম। বাংলাদেশে যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো আছে, সেই মেডিকেল কলেজের অনেকগুলোই অত্যন্ত মানসম্পন্ন এবং অত্যন্ত প্রশিক্ষিত চিকিৎসক তৈরির মহান কাজ সম্পন্ন করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এমন কিছু মেডিকেল কলেজ আমি পেলাম, যারা বিন্দুমাত্র নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না।

তিনি বলেন, যে মিনিমাম বিষয়গুলো থাকলে একটা মেডিকেল কলেজ সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে, বছরের পর বছর তাদের বলা সত্ত্বেও সেই বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মত এই বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে এমন মেডিকেল কলেজ আছে যাদের নিজস্ব কোনো দলিল নাই, থাকলেও সেই জমির কোনো দলিলপত্র দেখা যাচ্ছে না। তাদের স্থায়ী যে আমানত থাকার কথা, সেটাও নেই। এই মেডিকেল কলেজের অনেকগুলোতেই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন নেই। সেখানে হাসপাতাল নেই, রোগী নেই। তাহলে যারা ওখানে ভর্তি হচ্ছেন, তারা কিভাবে সঠিকভাবে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে উঠবেন?

এই মেডিকেল কলেজগুলো থাকার ফলে যে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হচ্ছেন, তারা প্রতারিত হচ্ছেন উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের বাবা-মা তাদের স্বপ্ন এবং কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করছেন এবং প্রতারিত হচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত জনগণ প্রতারিত হবেন। কিছু মানুষ এখান থেকে ডাক্তার হয়ে যদি বের হন, তাদের মিনিমাম কোনো প্রশিক্ষণ থাকবে না, তাদের কাজ শেখার সুযোগ নেই। সেই ডাক্তারদের হাতে আমাদের জনগণের জীবন নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মনে করেন সকল বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে একটি ‘মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড’ পূরণ করতে হবে এবং সরকারি নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি সন্তান যারা চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সেখানে ভর্তি হন, তাদের সুচিকিৎসক হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়ার হাসপাতাল, জনবল এবং রোগী থাকবে। সেটা যদি না হয়, তাহলে আমরা যেমন ভুয়া ডাক্তার, ভুয়া নার্স এবং ভুয়া ক্লিনিক বন্ধ করার চেষ্টা করছি, এই ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানাগুলোকেও আমাদের বন্ধ করতে হবে জননিরাপত্তা স্বার্থে, জনগণের স্বাস্থ্যের স্বার্থে।

ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর সমর্থন চান প্রতিমন্ত্রী। ডা. এমএ মুহিত বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা, আমাদের এই সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছি, অনিয়ম থেকে নিয়মের বাংলাদেশ তৈরি করতে এবং সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। আমাদের দরকার আপনাদের সমর্থন। তাহলেই আমরা বিজয়ী হব।

মাভাবিপ্রবির ছাত্রী হলে তল্লাশি চালিয়ে বৈদ্যুতিক সারঞ্জাম জ…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক ‘হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬’ সম্মাননা পেলেন গাকৃবি ভি…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষার্থীদের নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করবেন ডাকসু নেতারা 
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগে শিক্ষক সংকট, অনশনে বসলেন চেয়ারম্যান
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মহেশপুর সীমান্তে তিন বাংলাদেশিকে আটক করল বিএসএফ
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ে পানির কল চুরি করতে এসে যুবক আটক
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬