শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এই ইনডাকশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয় © সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষায় ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে মার্চ-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ফেইজ এ-তে ভর্তিকৃত নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের শপথ অনুষ্ঠান ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (১ মার্চ) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এই ইনডাকশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের ১৩০৬ জন রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল। রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করে নবাগত রেসিডেন্টদের শপথবাক্য পাঠ করান বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।
মোট ১৩০৬ জন রেসিডেন্ট শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে সার্জারি অনুষদে ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদে ৪০০ জন, শিশু অনুষদে ১২৪ জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদে ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট রয়েছেন।
ইনডাকশন প্রোগ্রাম সঞ্চালনা করেন বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ।
শপথ পাঠ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, চিকিৎসা বিদ্যার শেষ নাই। পেশাগত বিদ্যা ও মানবিক বিদ্যার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেকে মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রোগীদের প্রতি মমত্ববোধ দিয়ে ভাল ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। রোগীদের যাতে চিকিৎসাসেবার জন্য বিদেশে যেতে না হয় সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মলিউকুলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি ও রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের জন্য মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চায়। সেই লক্ষ্য পুরণ করতে নবাগত রেসিডেন্টবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সেজন্য রেসিডেন্টগণকে উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা জীবনের সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসাসেবার জ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে গবেষণায়ও গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেকে আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তুলতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবটিকস এর ব্যবহারের বিষয়েও জ্ঞান থাকা জরুরি।
ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, আজকের রেসিডেন্টরা আগামীদিনের জ্ঞানভিত্তিক মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিজেকে গড়ে তুলবেন সেটাই কাম্য। ই-লগ বুক ও ই-আইআরবি চালু, বিএমইউ জার্নাল, আইআরবি এবং ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনসহ বিএমইউতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে নবাগত রেসিডেন্টদের আন্তর্জাতিমানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। গত ১৫ বছরে বিএমইউতে ৩ হাজার গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে এর মধ্যে গত ৫ বছরে ১১শত গবেষণার ফলাফল ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইনডাকশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ তৈরি হবেন তাদের প্রধান কাজ দেশের জনগণের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখতে হবে। চিকিৎসাসেবা করাতে গিয়ে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ রোগীরা দারিদ্রসীমার নিচে চলে যায়। তাই কম খরচে কীভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে করে রোগীদের চিকিৎসাব্যয় বর্তমান সময় থেকে অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।