সায়মা ওয়াজেদ পুতুল © ফাইল ছবি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চতুর্থ সমাবর্তনে সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে সূচনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা ও অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে। সোমবার (১৩ মার্চ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কনভেনশন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
এছাড়াও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সম্মানসূচক (পিএইচডি) ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে বিএসএমএমইউ’র সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিষ্ট অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডাঃ কাজী শহিদুল আলমকে। এদিন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হয়েছে ৩৫ জনকে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মোশাররফ হোসেন, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মনিরুজ্জামান খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার মেয়ে। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে পুতুল সারা বিশ্বে অটিস্টিক শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২০১৩ সালের জুন থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য এবং একজন স্বীকৃতি-প্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানী।
সায়মা ওয়াজেদ ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি, ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বাংলাদেশের নারী উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ে তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার একাডেমি অব সায়েন্স শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসাবে স্বীকৃত দেয়।
২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম ও স্নায়বিক জটিলতাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ করছেন সায়মা। প্রথমে নিজ দেশ বাংলাদেশে কাজ করেন এবং পরে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কাজ করেছেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ‘হু অ্যাক্সিলেন্স’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। তিনি ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজম বিষয়ক প্রথম দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনের আয়োজন করেন। ২০১৬ সালে সায়মা ওয়াজেদ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ডের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। সায়মা যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটিজম স্পিকসের পরামর্শক হিসাবেও কাজ করছের বর্তমানে।