কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা থাকছে অপরিবর্তনীয়, নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে না সরকার

০২ জুলাই ২০২২, ১১:৫৮ AM
কওমি মাদ্রাসা

কওমি মাদ্রাসা © ফাইল ছবি

দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা আপাতত নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে না সরকার। তবে মাদ্রাসার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। 

এর আগে সিদ্ধান্ত ছিল কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নে শিক্ষা আইনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তবনা থাকবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষাও সংযুক্ত করা হবে। পরিমার্জন আনা হবে চূড়ান্ত খসড়ায়। কিন্তু সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া শিক্ষা আইনের খসড়ায় নিয়ম-কানুন আগের মতোই রাখা হয়েছে। বাড়তি কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়নি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। নতুন করে কিছু সংযুক্ত করা হয়নি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে উন্নয়নের কথা ভাবা হলেও মাদ্রাসা পরিচালনাকারীরা তা চান না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে একটি কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলেও তা আর হয়নি। এখন ‘সরকার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’ অংশটুকু রেখে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গত বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত সংক্রান্ত বৈঠকে কওমি মাদ্রাসা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ‘সরকারের নিয়ন্ত্রণে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়ন করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কারণ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।’ ওই সিদ্ধান্তের আলোকে কওমি শিক্ষার বিষয়টি আইনের খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘নিবন্ধন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পৃথিবীর কোনও দেশে কোনও ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় না। ভারতেও দেওবন্দ নিবন্ধন নিতে হয়। আইনে সেভাবে রাখা না হলেও অন্তত নিবন্ধন থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া তাদের তথ্য পাওয়া যাবে কীভাবে?’  

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সন্তান কোথায় কী লেখাপড়া করছে তা জানা দরকার। কওমিসহ দেশের সব শিক্ষা ধারাকে একটি ছাতার নিচে এনে যার যার স্বাতন্ত্র বজায় রেখে চালাতে হবে। এই শিক্ষা ধারাকে একটি রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আনতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে চলছে, আয়ের উৎস কী, পাঠ্যক্রম কী, কী শেখাচ্ছেন তা তো জানতে হবে।’

২০১৩ সালের ৫ এপ্রিল হেফাজত কাণ্ড, মোদি-বিরোধী আন্দোলন ও গত বছর মামনুলকে গ্রেফতারের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের দিয়ে সহিংসতা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে কওমি শিক্ষাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় রাজনীতিতে যুক্ত করা ও সহিংসতায় ব্যবহারের অভিযোগের পর গত বছর ২১ জুন দেশের সব মাদ্রাসা নিবন্ধনের আওতায় আনার একটি কমিটি গঠন করে সরকার। এরপর কওমি মাদ্রসাসহ সব ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়।

কওমি, নুরানি, দিনিয়া, ফোরকানিয়া ও ইবতেদায়িসহ সকল ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়।

ডাটাবেজ অনুযায়ী দেশে বর্তমানে কওমি মাদ্রাসা আছে ১৯ হাজার ১৯৯টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। ২০১৫ সালে এ মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৯০২টি। গত পাঁচ বছরে মাদ্রাসার সংখ্যার বাড়ার পাশপাশি শিক্ষার্থীও বেড়েছে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  

ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
কুবিতে ‘পাটাতন’ এর প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতাদের সাক্ষাৎ
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
কাল ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জাবির পরিবহন অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত…
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ফয়জুল করীমের আসনে জামায়াতের প্রার্থী না দেওয়া নিয়ে যা বলছে …
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9