১২ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না এলেও চাকরি বহাল শিক্ষকের, পেয়েছেন বেতনও 

২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ AM
সহকারী শিক্ষক আল্ মামুন

সহকারী শিক্ষক আল্ মামুন © সংগৃহীত

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়মের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক আল্ মামুন টানা ১২ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার চাকরি বহাল রাখা হয়। এ সময় তার এমপিওভুক্ত ইনডেক্স (ঈ-২০০০৮৯৬) সচল ছিল এবং নিয়মিত সরকারি বেতনের অর্থও তার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে।

জানা গেছে, একটি এমএলএম কোম্পানির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আল্ মামুন ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, তথ্য গোপন করে তার এমপিও ইনডেক্স সচল রাখা হয়।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ স্বীকার করেছেন, আল্ মামুনের ১২ বছরের অনুপস্থিতির তথ্য তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানাননি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সুপারের যোগসাজশে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ লঙ্ঘন করে এক যুগ পর আল্ মামুনকে একই পদে পুনরায় যোগদান দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বিদ্যমান এমপিও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১৮ ধারার ১(গ) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানপ্রধান মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে কিংবা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের এমপিও বাতিল করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাও করার বিধান রয়েছে।

অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আল্ মামুন জানান, রাজনৈতিক কারণে আমি এলাকায় থাকতে পারিনি। আপনার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা আছে কি? জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সুপার ইকরাম হোসেন হামিদ বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট আগ মাসে আল মামুন এসে সাদা কাগজে আমার কাছে একটি আবেদন করেন। আমি সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরিতে যোগদানের সম্মতি প্রদান করি। একই সময় থেকে তার বেতন বিল স্বাক্ষর শুরু করি।

বিগত ১২ বছর তার একাউন্টে সরকারি বেতনের টাকা জমা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে সুপার ইকরাম হোসেন হামিদ বলেন, অ্যাকাউন্টে সরকারি বেতনের টাকা এসেছে কি না জানি না। তবে সে অনুপস্থিত থাকায় বেতন-বিল করা হয়নি। অনুপস্থিত থাকার কারণে বিধিমালার আলোকে তাকে শোকজ নোটিশ করেছিলেন কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে সুপার গোজামিলে বলেন, মনে নেই দেখতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লা বলেন, ঘটনাটি আপনার কাছে মাত্র শুনলাম, তদন্তসাপেক্ষে সত্যতা পেলে নীতিমালা মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেব।
 

ওয়ালটনে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন করুন এখনই
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
শতবর্ষের অমীমাংসিত গণিত সমস্যার সমাধান, বিশ্বের সর্বোচ্চ পু…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশে বছরে পানিতে ডুবে মারা যান ১৮ হাজার মানুষ
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
বাসে চবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, যুবককে থানায় দিলেন যাত্রীরা
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
শিক্ষকের বাসায় গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে যা লে…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
জার্মানির কোচ হয়েই ক্লপের কঠোর বার্তা, ‘আমার পরিবারের পেছনে…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬