ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, বিপাকে ৮ শিক্ষার্থী

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪ PM
রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসা

রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসা © টিডিসি ফটো

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে দাখিল গণিত পরীক্ষায় অন্তত ৮ শিক্ষার্থীর ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসার কেন্দ্রের ১২ নং কক্ষে তিনটি স্কুলের অন্তত ৮ পরীক্ষার্থীর হাতে ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়, যদিও তারা নতুন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী। বিষয়টি শিক্ষকদের জানিয়ে পরীক্ষার্থীরা আপত্তি তোলে।

কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কক্ষের দুই শিক্ষক তাদের ধমক দিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেন। ১২ নং কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া মনিরামপুর ফাজিল মাদ্রাসার ভুক্তভোগী ৮ শিক্ষার্থী বিষয়টি অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, ওই কক্ষে আরও দুই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় দিচ্ছে।

সোহানা, রাবেয়া ও খাদিজা জানান, আমাদের ভুল প্রশ্ন দেওয়ার বিষয়টি আমরা বুঝতে পেরে দায়িত্বরত দুই শিক্ষককে জানালে তারা আমাদের ধমক দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন চাকুরি জীবনে এসব বিষয় নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সুতরাং যেভাবে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে সেইভাবেই পরীক্ষা দাও। যার ফলে আমরা ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছি।

পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা এ ঘটনা পরিবারকে জানালে অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরীক্ষা শেষে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা নিজ প্রতিষ্ঠান মনিরামপুর ফাজিল মাদ্রাসায় এসে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। তবে কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদেরকে ফিরে যেতে হয়েছে। এতে করে ৮ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রথমে চারজনের প্রশ্নের ওলাট-পালট হয়েছিল পরে সেটি সঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো ভূল হয়নি এবং কোনো সমস্যা হয়নি। বিষয়টি আমি ইওএনও স্যারকেও জানিয়েছি। ১২ নং রুমে কোন কোন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন সেটি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। আগামীকাল জানাতে পারবো।

কেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা এ ঘটনার দায়ভার এড়াতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে হল সুপার আব্দুল আলীম বলেন, পরীক্ষার সময় আমি প্রত্যেকটি কক্ষে একাধিকবার গিয়েছি। আমার কাছে কোনো পরীক্ষার্থী কোনো অভিযোগ করেনি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি ট্যাগ অফিসারের সাথে কথা বলে পরে বিষয়টি জানাতে পারব।

এ বিষয়ে কেন্দ্র ট্যাগ অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। কেন্দ্র সচিবের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।

মনিরামপুর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাসুদ হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। যদি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে কেন্দ্র সচিবকে প্রত্যাহারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং কেন্দ্রের সচিবের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, সবকিছু ঠিকঠাকমতো হয়েছে। তারপরও আপনারা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার অথবা কেন্দ্র সচিবের সাথে কথা বলে নিতে পারেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য,…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বজ্রপাতে সাত জেলায় একদিনে ১৪ জনের মৃত্যু
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
হত্যাকাণ্ডের শিকার বিসিএস কর্মকর্তা বুলেট, আটক ৪ 
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
কারে বাইকের ধাক্কা, তিনশ ফিটের সড়কে গেল দুই এইচএসসি পরীক্ষ…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, বিপাকে ৮ শিক্ষার্থী
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দুই নতুন মুখকে স্কোয়াডে রাখার ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬