বাংলাদেশের কাছে হারের পর অজুহাত দিলেন না কামিন্স, প্রশংসায় ভাসালেন শান্তদের

১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৯ PM
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স © সংগৃহীত

বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক হারের পরও দলের প্রস্তুতি নিয়ে কোনো অজুহাত দেননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারের পর বাংলাদেশের কৃতিত্ব অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। কামিন্সের মতে, ম্যাচের প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সব বিভাগে ভালো খেলার প্রশংসা করেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কাছে এই প্রথম টেস্ট হার এটি। তাই এমন পরাজয়ের পর দলের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিশেষ করে কয়েক মাস আগে কামিন্স জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সিরিজের প্রস্তুতির জন্য তার দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডে খেলার আকর্ষণীয় প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তকে হারের কারণ হিসেবে দেখছেন না অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।

কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে কামিন্স বলেছিলেন, ‘আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের জন্য পাঁচ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট খেলতে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার এমন বড় পরাজয়ের পর সেই প্রস্তুতির প্রসঙ্গ সামনে আসে। তবে কামিন্স পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, দলের প্রস্তুতি নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। বরং মাঠে বাংলাদেশই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে বলে মনে করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে দলের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কামিন্স বলেন, ‘সম্ভবত প্রথম দিনেই। আমি মনে করি, আমাদের প্রস্তুতি মোটামুটি ঠিকঠাকই ছিল। আমার মনে হয়েছে, প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল। তাই কোনো অজুহাত নেই। তারা খুব ভালো খেলেছে। আমার মনে হয়েছে, প্রথম দিনের উইকেটে শুরুতে কিছুটা সহায়তা ছিল। তবে আমাদের আরও কিছুক্ষণ ব্যাট করার উপায় খুঁজে বের করতে হতো। এরপর বল হাতে আমরা যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারিনি। তবে আমি মনে করি, তারা খুব ভালো খেলেছে।’

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেছেন। বোলাররাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত করেছেন। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা যেভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন, সেটিই অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের কাছে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে বড় পরিবর্তন আসতে পারে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয় কামিন্সের কাছে। তিনি পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে নন তিনি। দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ম্যাচের পরিকল্পনা করার কথা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।

কামিন্স বলেন, ‘আমি মনে করি, এমন প্রতিটি ম্যাচের পরই আমরা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমাদের ম্যাচআপ এবং পরের ম্যাচের জন্য দলের গঠন নিয়ে ভাবি। তবে আমরা মাত্রই ম্যাচ শেষ করেছি। তাই এ বিষয়ে আমাদের ভাবার সময় আছে। আমরা ঘুরে দাঁড়াতে বেশ ভালোভাবেই জানি। তাই ব্যাটাররা এবং দলের প্রতিটি বিভাগ একসঙ্গে বসে এই ম্যাচ নিয়ে ভালোভাবে ভাববে এবং কোথায় উন্নতি করা যায়, তা খুঁজে বের করবে।’

বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার এই হারকে শুধু ব্যাটিং বা বোলিংয়ের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না কামিন্স। তার চোখে, ম্যাচের সব বিভাগেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ধৈর্য এবং বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে সত্যিই ভালো খেলেছে কি না, জানতে চাইলে কামিন্স বলেন, ‘হ্যাঁ, তারা করেছে। আমি মনে করি, সব দিক থেকেই তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমার মনে হয়েছে, তারা খুব ধৈর্যশীল এবং বেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। আর আমরা একবার পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরে আসা সত্যিই কঠিন হয়ে গিয়েছিল।’

ডারউইনের প্রথম টেস্টে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে বড় জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডে চাপ তৈরি করার পাশাপাশি বল হাতেও নিয়মিত উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশের বোলাররা। ফলে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দুই ইনিংসেই প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে পারেননি। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয়।

বাংলাদেশের এই জয় শুধু সিরিজের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সাফল্য নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাসও গড়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার প্রথমবারের মতো সেই সাফল্য অর্জন করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কও বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্সের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশের জয়কে কোনো অঘটন বা অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতির ঘাটতির ফল হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং শান্তদের দলগত পারফরম্যান্সকেই জয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন কামিন্স।

প্রথম টেস্টে হারের পর এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় টেস্টে একাদশে পরিবর্তন আনা হবে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা হলেও কামিন্স এখনই কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি। বরং দলের প্রতিটি বিভাগকে নিয়ে পর্যালোচনা করে ভুলগুলো চিহ্নিত করার দিকে নজর দিতে চান তিনি।

অন্যদিকে ঐতিহাসিক এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিরিজের পরের ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও দলগত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে শান্তর দল, সেটিই এখন পরের ম্যাচেও ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই, জ…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
ঐতিহাসিক জয়ের পর সুখবরও পেল বাংলাদেশ 
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
তৃণমূল কার্যালয়ে থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ডেপুটি স্পিকারের ম…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
পে স্কেল বাস্তবায়ন কবে থেকে, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য স…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
রাবি ভর্তি পরীক্ষা ৭ কেন্দ্রে, আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
nextjobzimage