এসএসসি পরীক্ষা © এআই সৃষ্ট ছবি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)। এ পরীক্ষা শুরুর আগেই ঝরে গেছে বা পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়েছে অন্তত সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী। তারা এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। এর পেছনে কারণ হিসেবে বাল্যবিয়ে, বিদেশে চলে যাওয়াসহ নানান কারণ সামনে আনছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। এর মধ্যে এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন।
দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) করেও প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। তবে এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী সাড়ে ১৮ লাখের বেশি।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন দুই বছর আগে (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৩ জন। এবারের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছে ১১ লাখ ৫ হাজারের বেশি। সে অনুযায়ী, ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষা দিচ্ছে না। তারা ঝরে যাওয়া বা আগের ক্লাসে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করে ৩ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী। পরীক্ষা দিচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ বছর আগে নিবন্ধন করে ১ লাখ ৮৩ হাজার শিক্ষার্থী। তবে তাদের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে এক লাখ ছয় হাজারের বেশি।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। এর মধ্যে এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) করেও প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।
চলতি বছর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী চার লাখের বেশি। তাদের মধ্যে এক বিষয়ের পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৬১ হাজারের বেশি। বাকিরা দুই, তিন, চার বা সব বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। আর মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী।
৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনে সব প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকল রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
আরও পড়ুন: যশোর বোর্ডে এসএসসিতে অতিরিক্ত সময় পাবে ১৪৪ পরীক্ষার্থী
এসএসসিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এটি নিয়ে আমরা একটি গবেষণা করছি। গবেষণাটি শেষ হলে আসল কারণ বোঝা যাবে। এই মুহূর্তে আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না কেন কমছে।’
প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক কারণ আসলে বোঝা মুশকিল। এটা নিয়ে যদি কাজ করি, কেন বাচ্চারা পরীক্ষা দিচ্ছে না, সই বিষয়ে একটি কারণ বের করতে হবে। আমরা সে দিকেই এগোচ্ছি।‘ এ বিষয়ে কোনো কমিটি গঠন হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, কমিটি গঠন করা হয়নি। বোর্ড সব সময়ই এ বিষয়ে কাজ করে, আগেও অনেকবার কাজ করেছে। এবারও আমরা কাজ করছি।
গত বছরের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত বছরে মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে ছিল একটি বড় কারণ। আবার অনেক ছেলে বিদেশে চলে গেছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ সমস্যাটি বেশি দেখা গেছে এটাই বড় কারণ ছিল।’ গতবারের অনুসন্ধানের পর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, যেসব এলাকায় সমস্যা বেশি, যেমন শরীয়তপুর ও মাদারীপুর, সেখানে আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে, তারা কাজ করছে।’
গতবারের তুলনায় এবার এসএসসিতে ৭৯ হাজার ২৩৫ পরীক্ষার্থী কমেছে। এবার মোট পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। আগের বার ফল প্রকাশের যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তাতে মোট পরীক্ষার্থী ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি ছিল।