এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা ২য় পত্র বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়ার কিছু কৌশল আছে। কীভাবে পাবে, তা জেনে নাও। পরীক্ষায় উত্তর লেখার কৌশল হবে সুনির্দিষ্ট, পরিমিত ও প্রাসঙ্গিক। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা) আতাউর রহমান সায়েম।
এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি আছে। আশা করি তোমাদের প্রস্তুতি এর মধ্যেই গুছিয়ে নিয়েছ। আমি তোমাদের প্রস্তুতিকে আর একটু সহজ করার জন্য বাংলা দ্বিতীয় পত্র বিষয়ে কিছু পরামর্শ তুলে ধরছি। তোমরা বেশি টেনশন না করে সিলেবাস অনুযায়ী দ্বিতীয় পত্রের নির্মিতি অংশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ তুলে ধরছি। আশা করি তোমাদের খুব কাজে লাগবে
অনুচ্ছেদ—প্রশ্নে উল্লিখিত অনুচ্ছেদের বিষয়টি WH Question-এ (5W+1H Formula) কী, কে/কারা, কখন, কোথায়, কেন, কীভাবে প্রশ্নের উত্তর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক দিক আলোচনা করে ইতিবাচক কথায় মূল্যায়ন করে সংক্ষেপে এক প্যারায় সম্পন্ন করতে হবে।
ব্যক্তিগত পত্র ও আবেদন পত্র
ব্যক্তিগত পত্র ও আবেদন পত্র লেখার কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। সনাতন নিয়মে ব্যক্তিগত পত্রে সাধারণত ৬টি অংশ থাকে। যথা—১. স্থান ও তারিখ ২. মঙ্গলসূচক শব্দ কিংবা মঙ্গলসূচক বাক্য ৩. সম্বোধন পদ ৪. মূল পত্রাংশ/মূলবক্তব্য ৫. পত্র লেখকের নাম-স্বাক্ষর ও ৬. শিরোনাম/খামে প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা। ব্যক্তিগত পত্র লিখতে হলে ব্রিটিশ/সনাতন পদ্ধতিতে শুরুতে খাতার উপরের ডান দিকে স্থান (ছোটো করে) ও তারিখ লিখতে হবে।
মঙ্গলসূচক শব্দ কিংবা মঙ্গলসূচক বাক্য (যেমন—মুসলিম রীতিতে ইলাহি ভরসা, হিন্দুরীতিতে শ্রী, খ্রিষ্টানরীতিতে ঈশ্বর মহান) সম্পর্কে একটু বিতর্ক রয়েছে। এনসিটিবির বিভিন্ন বোর্ড বইয়ের নির্মিতি অংশে মঙ্গলসূচক শব্দ কিংবা মঙ্গলসূচক বাক্য গত কয়েক বছর ধরে লেখা দেখা যাচ্ছে না। এর কারণও রয়েছে।
কারণটি হলো—কোনো পরীক্ষার্থী মঙ্গলসূচক শব্দ কিংবা মঙ্গলসূচক বাক্য লিখলে তা সে কোন ধর্মের অনুসারী তা অনেক পরীক্ষক খুব সহজে বুঝতে পারবেন। তাই সাম্প্রদায়িক প্রভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়নে আবেগে নম্বর প্রদানে শিক্ষার্থীদের কম কিংবা বেশি নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বর্তমানে মঙ্গলসূচক শব্দ কিংবা মঙ্গলসূচক বাক্য না লেখাই উচিত হবে। এরপর যার কাছে লেখা হবে, তাকে সম্বোধন করে ডাক নামে ও ছোটো নামে (যেমন—প্রিয় সাজু) লেখার পর ঠিক তার নিচে সালামসহ কুশল বিনিময় করার কথা লেখা ভালো হবে।
এরপর দুটি বা তিনটি প্যারায় প্রাসঙ্গিক কথার বিবরণী বা মূলবক্তব্য উপস্থাপন তুলে ধরে শেষের প্যারায় প্রাপকের পরিবারের সদস্যদের সালাম শুভেচ্ছা দিয়ে নিচে ডান দিকে বিদায় সম্ভাষণ জানাতে ইতি লিখে সংক্ষিপ্ত প্রতীকী নাম (যেমন—রাজু) লেখা উত্তম হবে। তবে পরীক্ষার প্রশ্নে কোনো নাম উল্লেখ থাকলে সেই নামই লিখতে হবে, পছন্দ মতো অন্য নাম লেখা যাবে না। আর সবশেষে খাম অংকন করে ডান দিকে ডাকটিকিট লিখে নিচে বামে প্রেরক ও ডানে প্রাপকের প্রতীকী ঠিকানা লিখতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রশ্নে প্রাপকের প্রবাসী ঠিকানা থাকলে খামের ভেতরের সম্পূর্ণ অংশ ইংরেজি ক্যাপিট্যাল লেটারে লেখা উচিত। এক্ষেত্রে খামের উপরে BY AIR MAIL ও ডানে STAMP কিংবা মেশিনের সাহায্যে ছাপ মারার POST এবং প্রেরকের জায়গায় FROM ও প্রাপকের জায়গায় TO লিখে ইংরেজিতে পুরো ঠিকানা পোস্টাল কোডসহ লেখা উচিত।
আবেদন পত্র লিখতে হলে—সনাতন নিয়মে (ডান-বাম দিক) কিংবা আধুনিক নিয়মে (সব বাম দিক) যেকোনো একটা নিয়মে অনুসরণ করে লেখা উচিত। আধুনিক নিয়মে শুরুতে তারিখ লেখার সময় ১লা, ২রা, ৪ঠা, ৭ই, ২১শে ইত্যাদি না লিখে শুধু সংখ্যা (জানুয়ারি ০৯, ২০২৬ কিংবা ০৯.০১.২০২৬) লেখাই উত্তম। তবে অন্যক্ষেত্রে বর্ণনায় ইতিহাসের ঐতিহ্য হিসেবে যেমন—পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, ১৬ই ডিসেম্বর এগুলো লেখা যেতে পারে। আর সাল বা সন লেখার পর বাং কিংবা ইং লেখা ঠিক না। হয় খ্রিষ্টীয় সালকে খ্রিষ্টাব্দ, নতুবা বাংলা সনকে বঙ্গাব্দ লেখা উচিত। অবশ্য এ দুটোর শব্দ কেউ সংক্ষিপ্ত লিখতে চাইলে খ্রি. আর ব. লিখতে পারবে। কোনোমতেই ডট চিহ্নের (.) পরিবর্তে অনুস্বার (ং) ব্যঞ্জনবর্ণটি লেখা যাবে না।
আধুনিক নিয়মে আবেদন পত্রের বরাবর/মাননীয় না লিখে বরং সনাতন নিয়মে লেখা উচিত। অবশ্য আমাদের বাংলাদেশে উভয় রীতিতে রাষ্ট্রের নির্বাহী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বরাবর (যেমন—সচিব) আর রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে মাননীয় (যেমন—সংসদ সদস্য), মহামান্য (যেমন—রাষ্ট্রপতি) লেখার ব্যবহার প্রচলন আছে। যাহোক, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের আবেদনপত্র অংশে পরীক্ষার্থীর নাম ও বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না থাকলে খাতায় বিদ্যালয়ের নাম ও ঠিকানা এবং নিজের নাম প্রতীকীভাবে (যেমন ক, খ ইত্যাদি) লেখা ভালো।
মাধ্যম—শ্রেণিশিক্ষক না লিখলেও চলবে; তবে লেখা উত্তম। কারণ শ্রেণিশিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীর আবেদন পত্র মন্তব্য লিখে প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ বরাবর ফরোয়াড করেন। মূলত মাধ্যম হিসেবে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা ওই আবেদনপত্রটি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট ফরোয়াড করে থাকেন। এরপর বিষয় লিখে বিসর্গ (ঃ) না লিখে কোলন (:) দিয়ে সংশ্লিষ্ট আবেদনের কথাটি লিখে পুরো বাক্যটির নিচে আন্ডার লাইন করা উত্তম। ‘জনাব’ (Mr.) শব্দ ব্যবহার না করে ‘মহোদয়’ (Sir) শব্দ ব্যবহার করা উত্তম। ‘বিনত’ ও ‘বিনীত’—এ দুটো শব্দ নিয়ে একটু বিতর্ক আছে। ‘বিনত’ শব্দের অর্থ হচ্ছে—বিশেষরূপে নত হওয়া, আর ‘বিনীত’ শব্দের উপসর্গযোগে আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে—বিশেষভাবে আনা হয়েছে। আবার ‘বিনীত’ শব্দটি ‘ইত’ প্রত্যয় যোগে গঠিত হলেও ঠিক হবে না।
আবার ‘বিনীত’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ থেকে; যার অর্থ হচ্ছে—সুশিক্ষিত, সংস্কৃতিবান, অনাড়ম্বর ইত্যাদি। এসব গুণের অধিকারী কোনো ব্যক্তি কি অন্যের কাছে নিজেকে এভাবে বিশেষিত করতে পারেন? তাই অর্থের বিচারে এবং শব্দ গঠনে আবেদন পত্রে ‘বিনীত’ শব্দের চেয়ে ‘বিনত’ শব্দের প্রয়োগ বেশি যুক্তিসঙ্গত। অবশ্য ‘বিনীত’ শব্দটি বাংলা ভাষায় বিশেষ করে আবেদন পত্রে যুগের পর যুগ বিভিন্ন বইয়ে প্রচলিত ভুল ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিধানেও ‘অনুরোধ’ অর্থে লেখা হচ্ছে। তাই পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ‘বিনীত’ শব্দটিও শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে, বিনত/বিনীত লেখার পর সবিনয় লেখা কোনো মতেই উচিত হবে না। যেকোনো একটা লিখতে হবে। কারণ এতে একই অর্থে বাহুল্য দোষ হবে। এক্ষেত্রে বিনত/বিনীত শব্দের চেয়ে সবিনয় লেখা বেশি ভালো হবে।
আর ‘বাধিত’ শব্দটি না লিখে ‘মর্জি’/‘মঞ্জুর’ শব্দটি লেখাই বেশি ভালো হবে। কারণ ‘বাধিত’ সংস্কৃত শব্দটির অর্থ হচ্ছে বিড়ম্বিত, বিরক্ত, নির্যাতিত, বাধাপ্রাপ্ত ইত্যাদি। তখন হয়ত কেউ কেউ শব্দের অর্থের বিভ্রাট মনে করতে পারেন। তবে ‘বাধিত’ শব্দটিও আমাদের দেশে আবেদন পত্রে অনেক দিন ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে এ শব্দটিকেও শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। অনেক পরীক্ষার্থী বিনীত নিবেদক লিখে নিচে আপনার একান্ত অনুগত বাধ্যগত ছাত্র লিখে থাকে। কিন্তু এভাবে লেখা উচিত—নিবেদকের নিচে আপনার অনুগত ছাত্র /শিক্ষার্থী। ‘একান্ত’ খুব Personal কিছু বুঝায়, আর ‘বাধ্যগত’ শব্দটি ভুল। কারণ ইংরেজি obedient-এর বাংলা ‘বাধ্য’ কিংবা ‘অনুগত’ (অনুগমন থেকে অনুগত)। তাই বলে অনুগত শব্দের আদলে বাধ্যগত লেখা যায় না। কারণ ‘বাধ্যগমন’ বলে বাংলায় কোনো শব্দ নেই। যৌথভাবে আবেদন পত্র (যেমন—শিক্ষা সফর কিংবা বনভোজন) হলে পক্ষে (যেমন—দশম শ্রেণির ছাত্রদের/শিক্ষার্থীদের পক্ষে, আব্দুর রহমান) লিখবে।
নিবেদকের নিচে আপনার অনুগত ছাত্র / শিক্ষার্থী লেখার পর নিচে অনুস্বাক্ষর দিয়ে নাম, শ্রেণি, শাখা, রোল লেখা উচিত হবে। অবশ্য ছোটো ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নমুনা স্বাক্ষর না দিলেও চলবে। উল্লেখ্য, নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় (যেমন—চেয়ারম্যান, মেয়র, জেলা প্রশাসক) আবেদন পত্রে ডাকযোগে পাঠানোর জন্য পোস্টাল কোডসহ ঠিকানা সম্বলিত (বামে প্রেরক, ডান দিকে প্রাপক/বরাবর, তার একটু উপরে ও একটু ডানে ডাকটিকিট) খাম দিতে হবে। সাধারণত এক পৃষ্ঠায় আবেদন পত্র লেখা উচিত। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের হাতের লেখা তুলনামূলকভাবে বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখার অভ্যাস, তাদেরকে প্রচলিত নিয়মে দুই পৃষ্ঠায় লেখার কথা বলা যেতে পারে। অবশ্য ব্যক্তিগত পত্র লেখার দুই পৃষ্ঠার বেশি হলেও কোনো সমস্যা নেই।
পরীক্ষায় ব্যক্তিগত পত্র ও আবেদন পত্র দুটির মধ্যে একটি লেখার কথা থাকলে পরীক্ষার্থীদের আবেদনপত্র লেখা উচিত। কেননা ব্যক্তিগত পত্রের চেয়ে আবেদন পত্র লেখা তুলনামূলক কম সময় লাগে। আর এক্ষেত্রে বেশিরভাগ শিক্ষক আধুনিক নিয়মে সব লাইন ও প্যারা বাম মার্জিন বরাবর লিখতে উৎসাহিত করেন। তবে কোনো পরীক্ষার্থী যদি ব্যক্তিগত পত্র লিখতে বেশি পছন্দ করে, সেক্ষেত্রে সনাতন নিয়মে শুরুতে খাতার উপরের ডান দিকে স্থান (ছোটো করে) ও তারিখ লিখবে। মঙ্গলসূচক শব্দ কিংবা মঙ্গলসূচক বাক্য না লিখে সম্বোধন পদে কমা দিয়ে নিচের লাইনে এক ট্যাব ডানে আর অন্যান্য লাইনগুলো বাম পাশে থাকলে ভালো হবে।
পত্র গর্ভাংশের পর নিচে ডান দিকে বিদায় সম্ভাষণ জানাতে ইতি লিখে প্রেরকের নাম লিখবে। শেষে একটি খামে সাধারণত (৫ ইঞ্চি × ৩ ইঞ্চি) বাম পাশে প্রেরক ও ডান পাশে প্রাপক লিখবে। উল্লেখ্য, অনেকের ভুল ধারণা ব্যক্তিগত পত্র কিংবা আবেদন পত্র উত্তরপত্রে খাতার যেকোনো বাম পৃষ্ঠায় শুরু করতে হবে, ডান পৃষ্ঠায় উত্তর লেখা শুরু করা যাবে না। হয়ত তাদের ধারণা—যাদের হাতের লেখা তুলনামূলকভাবে একটু বড়ো, তারা বাম পৃষ্ঠায় শুরু করে ডান পৃষ্ঠায় শেষ করলে পরীক্ষকের উত্তরপত্র মূল্যায়নে সুবিধা হয়। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এমন ধারণা করা ঠিক নয়। কারণ এখানে কোনো অংক বিষয়ের জ্যামিতি নেই যে, বারবার বাম পৃষ্ঠায় তাকিয়ে থেকে ডান পৃষ্ঠার বর্ণনায় রেখা, কোন, ত্রিভুজ ইত্যাদি মিলাতে হবে। তাহলে কি বাম পৃষ্ঠায় অন্য কোনো উত্তর লেখা থাকলে ডান পৃষ্ঠাটি অযথা কলম দিয়ে কেটে পরের পৃষ্ঠায় (বাম পৃষ্ঠায়) লিখবে? না এটা নষ্ট করা ঠিক হবে না। শুধু অর্ধেক পৃষ্ঠা থেকে লেখা শুরু না করাই উত্তম হবে।
সংবাদপত্রের প্রকাশিতব্য চিঠি-পত্র
অনেক পরীক্ষার্থী সংবাদ প্রতিবেদনের মতো সংবাদপত্রের প্রকাশিতব্য চিঠি-পত্র লিখে থাকে যা মোটেই উচিত নয়। এই দুটি বিষয়ের নিয়ম পুরো আলাদা। পরীক্ষায় সংবাদপত্রের প্রকাশিতব্য ‘চিঠি-পত্র’ কলামে পত্র এলে তোমরা আধুনিক পদ্ধতিতে প্যারাগুলো সব বাম পাশে দিবে। সবার উপরে বামপাশে তারিখ উল্লেখ করে সম্পাদক বরাবর পত্রিকার নাম ঠিকানা লিখে বিষয় লিখবে এবং মহোদয়ের পর এক কিংবা দুটি প্যারায় কাভারিং লেটার (দরখাস্তের মতো) লিখবে। এরপর নিবেদক লিখে পরীক্ষার প্রশ্নে উল্লিখিত নাম ও ঠিকানা লিখবে। যদি প্রশ্নে কোনো নাম ও ঠিকানা উল্লেখ না থাকে, তাহলে প্রতীকী নাম ও ঠিকানা লিখবে। অতঃপর পরের পৃষ্ঠায় মূল পত্রের জন্য শিরোনাম দিয়ে এলাকার নাম লেখার পর সমস্যার কথা লিখবে। তবে নিচে নিবেদক না লিখে শুধু এলাকাবাসীর পক্ষে ঠিকানা লিখবে এবং শেষে খাম অঙ্কন করে ডাকটিকিটসহ ঠিকানা লিখবে। আর সনাতন পদ্ধতিতে লিখতে চাইলে তারিখ উপরে না লিখে সম্পাদক বরাবর আবেদনপত্রটির নিচে বামপাশে লিখবে এবং নিবেদক লিখে নিচে নাম ও ঠিকানা ডানপাশে লিখতে হবে। উল্লেখ্য, প্যারাগুলো ডান-বাম করে মূল কথাগুলো একই রকম থাকবে।
সারমর্ম ও সারাংশ
১. প্রথম বাক্যটি সরল বাক্যে সুসংহত, নির্ভুল, আকর্ষণীয় হতে হবে। এতে পরীক্ষক বেশি নম্বর দিতে আকর্ষিত হন।
২. প্রশ্নে ব্যবহৃত হয়েছে, কোনো মনীষীর কোনো উদ্ধৃতি বা বাণী সরাসরি উল্লেখ করা যাবে না। মূলে প্রত্যক্ষ উক্তি থাকলে তা পরোক্ষ উক্তিতে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয়। অর্থাৎ কোনো উদ্ধৃতাংশ থাকলে সারমর্মে উদ্ধৃতি চিহ্ন বর্জিত হবে এবং সংক্ষিপ্ত ও সংহতরূপে প্রকাশ করতে হবে।
৩. সারমর্ম/সারাংশ/সারসংক্ষেপ লিখতে হবে সম্পূর্ণ নিজের ভাষায়।
৪. এখানে উপমা, রূপক, প্রতীক প্রভৃতি অলঙ্কার ব্যবহার এবং উদাহরণ বর্জন করতে হবে। অন্যের কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা যাবে না।
৫. একই ক্রিয়াপদ দিয়ে একাধিক বাক্য সমাপন, অপ্রয়োজনীয় বিশেষণ ও ক্রিয়া-বিশেষণ ব্যবহার করা যাবে না।
৬. প্রশ্নের গদ্যাংশ কিংবা পদ্যাংশ থেকে কোনো বাক্য বা বাক্যাংশ হুবহু গ্রহণ করলে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে না।
৭. উদ্ধৃত গদ্যাংশ বা পদ্যাংশ অপ্রধান ভাবকে পরিহার করে মূলভাবের দিকে পৌঁছতে হবে এবং তা যুক্তি-শৃংঙ্খলিত করে সহজ, সরল, অনাড়ম্বর ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। মনে রাখতে হবে—ভাষিক সৌন্দর্যের প্রাণ হচ্ছে সরল, প্রাঞ্জল ও যথাযথ উপস্থাপনা।
৮. সারমর্মে/সারাংশে উত্তম পুরুষ (যেমন—আমি), মধ্যম পুরুষ (যেমন—তুমি, তোমরা) ও নাম পুরুষ বা পক্ষে সে, তিনি, কবি, তার ইত্যাদি শব্দ সম্পূর্ণ বর্জনীয়। তবে নাম পুরুষে (যেমন—আমাদের) ব্যবহার করা যাবে।
৯. সারাংশ কিংবা সারমর্ম লেখার সময় আকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার। লেখাটি যেন মূল অংশের চেয়ে খুব বেশি ছোটো বা বড়ো না হয়। প্রদত্ত রচনার ভাববস্তু সুসংহত ও নিরেটভাবে প্রকাশিত হলে তা সংক্ষেপ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সারমর্ম/সারাংশ মূলের সমান, অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ বা তার কমও হতে পারে। তবে আকারের দিকটি বিবেচ্য বিষয় নয়; মূল ভাবটি অল্পকথার মধ্য দিয়ে সহজ-সরলভাবে প্রকাশ পেল কি-না তা বিবেচনায় আনতে হবে।
১০. সাধারণত একটি অনুচ্ছেদে লিখিত হওয়া বাঞ্চনীয়। আর হ্যাঁ, পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে ভালো নম্বরের জন্য পারতপক্ষে সারমর্ম দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে কেউ যদি ঠিকভাবে সারাংশ লিখতে পারে, সে-ও ভালো নম্বর পেতে পারে।
ভাবসম্প্রসারণ
বোর্ডের পরীক্ষার প্রশ্নে সাধারণত দুই ধরনের ভাবসম্প্রসারণ থাকে। একটি থাকে এক বাক্যের কিংবা এক চরণের। আর অপরটি থাকে দুই থেকে চার চরণের। তাই আগে থেকেই তোমরা চয়েজ করে নিবে এক বাক্যের কিংবা এক চরণের দিবে, না-কি ও দুই থেকে চার চরণের কবিতাংশের ভাবসম্প্রসারণ দিবে। এতে তোমাদের প্রস্তুতি অনেক সহজ হবে। ভাবসম্প্রসারণের কিছুু নিয়ম তুলে ধরছি—
১. প্রদত্ত পদ্যাংশ বা গদ্যাংশটুকু গভীর নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে পাঠ করতে হবে। পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গেই লেখা আরম্ভ না করে উদ্ধৃতির ভ্রূণভাব বা অন্তর্নিহিত ভাবটি বুঝে নিতে হবে।
২. কাব্যাংশের ক্ষেত্রে উদ্ধৃতিতে ব্যবহৃত শব্দসমূহের প্রকৃত অর্থ, প্রতীকী অর্থ এবং এর প্রয়োগ কৌশল অনুধাবন করতে হবে।
৩. কোনো উপমা, রূপক, উৎপ্রেক্ষা ব্যবহৃত হলে মূল ভাবটি প্রচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে এসবের মর্ম উদ্ধার করে মূল ভাবটি বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। দুই-চার লাইনের মধ্যে মূল ভাবটি শেষ করলে ভালো হয়।
৪. মূল ভাবসত্যের বিশ্লেষণ বিস্তৃতভাবে করতে হবে। মনে রাখতে হবে—ভাবের বিন্দুকে সিন্ধুতে পরিণত করতে হবে।
৫. একটি আকর্ষণীয় সুরচিত বাক্য দিয়ে ভাবসম্প্রসারণটি আরম্ভ করতে হবে।
৬. মূলভাব সম্প্রসারণের সময় এবং তা সর্বজনীনরূপে উল্লেখকালে প্রয়োজনানুসারে ঐতিহাসিক, পৌরাণিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-সমাবেশ করতে হবে। দরকার মতো মূল বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপমা বা উদ্ধৃতির ব্যবহার করা যেতে পারে; তবে বিদেশি কোনো ভাষায় উদ্ধৃতি দিতে চাইলে অর্থাৎ দিয়ে উদ্ধৃতিটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করতে হবে।
৭. ভাবসম্প্রসারণে প্রয়োজন অনুসারে এবং প্রাসঙ্গিকভাবে মহৎ আদর্শ, অনুসরণীয় বৈশিষ্ট্য, মানবতা, বিশ্বশান্তি ও যুদ্ধ বিরোধিতা, ধর্মীয় ও আত্মিক প্রশান্তি ইত্যাদি থাকতে হবে। শুধু মনীষীদের নাম উল্লেখ না করে তাঁদের জীবনের প্রায়োগিক দিক তুলে ধরতে হবে।
৮. উদাহরণ দিতে হলে বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্রের গদ্য, কবিতা ও আনন্দপাঠের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অধ্যায়ের দিক, চরিত্র কিংবা মূল উপজীব্য তুলে ধরলে ভালো হবে। ৯. প্রতিটি ভাবসম্প্রসারণে তিনটি/চারটি প্যারা করাই উত্তম। এর মধ্যে সর্বশেষ অনুচ্ছেদটি হবে সংক্ষিপ্ত ও উপসংহারসূচক। মন্তব্যে নিজস্ব মতামত থাকতে হবে।
যা যা করা উচিত না—উদ্ধৃতাংশের লেখকের নাম জানা থাকলেও তা উল্লেখ করা যাবে না। ব্যাখ্যা লেখার মতো কবি বলেছেন বা ‘লেখক বলেছেন’ বা এই ‘বাক্যে বলা হয়েছে---’ ইত্যাদি নির্দিষ্ট সূচক ভাষা ব্যবহার করা উচিত হবে না। কোনো বিশেষ শব্দের পৃথক টীকা-টিপ্পনী বা ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভাবসম্পসারণকে সারাংশের মতো আয়তনে ছোটো এবং প্রবন্ধের মতো অতিদীর্ঘ করা উচিত হবে না। ভাবসম্প্রসারণে Sub-heading বা উপ-শিরোনাম (মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্য) লেখার প্রয়োজন নেই। উদ্ধৃতাংশে যে ভাব-ভ্রূণ থাকবে, তার বিরুদ্ধেও বলা যাবে না। যেমন—‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান / তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সম্মান।’ এ কবিতাংশে দারিদ্র্যের গুণকীর্তন করা হয়েছে। ভাবসম্প্রসারণে বলা যাবে না যে, এখানে উল্লেখ করা হলেও আসলে দারিদ্র্য মানুষকে মহান করে না, মানসিকভাবে দুর্বল করে। মূলভাবে বিরোধী এমন বাক্য লিখলে ভাবসম্প্রসারণে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে না। প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন মনীষীর বাণী, প্রবাদ, পবিত্র ধর্মীয় উদ্ধৃতি (তথ্যসূত্রসহ), আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার পরিসংখ্যান, ঈশপের গল্প ইত্যাদি ছোটো করে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ উদ্ধৃতি বা বহু উদ্ধৃতি উভয়ই পরিতাজ্য। প্রাসঙ্গিক কোনো লেখকের কিংবা মনীষীর উদ্ধৃতি তুলে ধরতে চাইলে তাঁদের কথাগুলো ছাড়া ছাড়া করে নিজের ভাষায় লেখা যাবে না। অর্থাৎ উদ্ধৃতিতে যেসব বাক্য আছে তা হুবহু লিখতে হবে; অন্যথায় নম্বর কমে যাবে। কোনো বাক্যে বিরামচিহ্ন (Punctuation) ভুল লেখা যাবে না। যেমন—যেখানে দাঁড়ি (।) হবে সেখানে প্রশ্নবোধক (?) বা বিস্ময় সূচক (!) চিহ্ন দেওয়া যাবে না। উদ্ধৃতি তুলে ধরার সময় বাক্যের শুরু ও শেষে উদ্ধৃতি চিহ্ন (“---”) না দিলে উদ্ধৃতিই হবে না।
সংবাদ প্রতিবেদন
ক. সংবাদ প্রতিবেদন লিখতে সম্পাদক/কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আবেদনপত্র লিখতে হয় না।
খ. হেডলাইন (শিরোনাম) দিয়ে প্রতিবেদন লেখা শুরু করতে হয়।
গ. এরপর ডেটলাইন (প্রতিবেদকের নাম/ পদবি, স্থান, পত্রিকার নাম ও তারিখ) লিখে প্রথম অনুচ্ছেদে (Intro) খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখতে হয়।
ঘ. মূল প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদটি 5W+1H Formula ব্যবহার করে সংক্ষেপে লিখতে হয়। অর্থাৎ W= What, W= Where, W= When, W= Who, W= Why I H= How এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একত্রিত করে শিক্ষার্থী প্রথম অনুচ্ছেদটি লিখবে। প্রথম অনুচ্ছেদের পর একাধিক অনুচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে পুরো বিষয়টি বর্ণনা করতে হয়।
ঙ. সংবাদ প্রতিবেদন লিখনে প্রতিবেদককে অবশ্যই নির্মোহ (লোভহীন) ও নৈর্ব্যক্তিক (নিরপক্ষ) হতে হবে।
চ. সংবাদ প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে উত্তম পুরুষে লেখার (যেমন—সেখানে গিয়ে দেখলাম ...) দরকার নেই। ভাববাচ্যে (যেমন—সেখানে গিয়ে দেখা গেল যে, ...) লেখা বাঞ্ছনীয়।
ছ. সংবাদ প্রতিবেদনে সাংবাদিক নিজস্ব মতামত দিতে পারবেন না; তথ্যদাতাদের মতামত তুলে ধরবে মাত্র।
জ. মূল প্রতিবেদন লেখা শেষে ‘বিনীত নিবেদক’ কিংবা ‘ইতি’—এ ধরনের কথা লেখা যাবে না।
ঝ. প্রতিবেদন লেখা শেষে প্রতিবেদকের স্বাক্ষর দেওয়া যেতে পারে। তবে স্বাক্ষর না দিলেও চলবে।
ঞ. প্রতিবেদন লেখায় কোনো খাম দিতে হয় না। অনেকেই প্রতিবেদন সম্পর্কিত একটি তথ্য-ছক দিয়ে থাকে। এটি জরুরি নয়। কারণ হেডলাইন ও ডেট লাইনে শিরোনামসহ সাংবাদিকের সব তথ্য দেওয়া থাকে। আবার তথ্য-ছক দিলে বাহুল্য দোষ হবে। উল্লেখ্য, বোর্ডবইয়ে সংবাদ প্রতিবেদনে আলাদাভাবে কোনো তথ্য-ছক লেখা নেই।
প্রবন্ধ রচনা
প্রবন্ধ রচনায় খুব অল্প সময়ে দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তার জন্যে নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন। প্রবন্ধ রচনায় দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে নিম্নে কিছু নিয়ম তুলে ধরা হলো—
১. প্রবন্ধের বিষয় অনুযায়ী যুক্তি, মনন, তথ্য বা তত্বের পরিমাণ নির্ণীত হয়। পরিমাণ অতিরিক্ত বাহুল্য উৎকৃষ্ট রচনার পরিপন্থী।
২. প্রবন্ধ লেখার দক্ষতা অর্জনের জন্যে প্রচুর প্রবন্ধ পড়তে হয়। এজন্যে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা ও শব্দভান্ডার বাড়ে। ফলে সহজেই কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা যায়।
৩. প্রবন্ধের বক্তব্য বাস্তব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং যৌক্তিক পরম্পরায় উপস্থাপিত ও সন্নিবেশিত হওয় উচিত যেন তা স্পষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ায় সহায়ক হয়।
৪. ভাষারীতির ক্ষেত্রে সাধু ও চলিতের মধ্যে যেকোনো একটি নির্বাচন করতে হয়। ভাষা-রীতি বিষয়ানুগ হওয়াই বাঞ্চনীয়। আধুনিক বাংলায় যেহেতু চলিত রীতিরই ব্যবহার বেশি, সেজন্যে চলিত রীতি অবলম্বন করে প্রবন্ধ লেখার চর্চা করা ভালো। সাধু-চলিতের মিশ্রণ অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
৫. প্রবন্ধে যুক্তি প্রদর্শন কিংবা প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্যে অন্য রচনা থেকে উদ্ধৃতির অবকাশ আছে, তবে সে ক্ষেত্রেও লক্ষ রাখতে হয় প্রয়োজনীয় পরিমাপের দিকে। ঘন ঘন ও বড়ো বড়ো উদ্ধৃতি প্রবন্ধের স্বাভাবিক প্রকাশকে ব্যাহত করে।
৬. প্রবন্ধ রচনায় তুলনামূলকভাবে ভালো নম্বর পেতে হলে প্রশ্নে উল্লেখকৃত পয়েন্টগুলোর আলোচনা প্রসঙ্গক্রমে বিভিন্ন কবিতার চরণ, প্রবাদ-প্রবচন, মনীষীদের বাণী, ধর্মীয়গ্রন্থের উদ্ধৃতি ও বিভিন্ন তথ্যসূত্র (যেমন—বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন দিবসের ক্রোড়পত্র, বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার রিপোর্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা জার্নাল ইত্যাদি) উল্লেখ করতে হবে।
আধুনিক বানান বাদ দিয়ে পুরাতন বানান না লেখাই ভালো। যেমন—‘তরু’ আধুনিক বানান আর ‘তরু’ পুরাতন বানান। উল্লেখ্য, তোমাদের জন্য এনসিটিবি কিংবা বাংলা একাডেমির প্রদত্ত বানান অনুসরণ করাই উত্তম হবে। সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটানো যাবে না। প্রত্যেক উত্তরের শেষে সমাপ্তি চিহ্ন (---) দিয়ে সবশেষে রিভিশন দেওয়ার চেষ্টা করবে। কেননা এতে অনেক ভুল সংশোধিত হওয়ার সুযোগ থাকে। আর নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষায় (৩০ নম্বর) উত্তরপত্রে নির্দেশ অনুযায়ী ঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করবে। একই প্রশ্নোত্তরে একের অধিক বৃত্ত ভরাট করবে না।
উল্লেখ্য, বহুনির্বাচনি / নৈর্ব্যক্তিক অংশে ভালো নম্বর পেতে হলে বোর্ডের বাংলা ব্যাকরণ বইটি খুব ভালোভাবে পড়বে। আর নির্মিতির জন্য প্রয়োজনে ড. হায়াৎ মামুদ সম্পাদিত ‘ভাষা-শিক্ষা বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও রচনা রীতি’সহ অন্যান্য লেখকের ভালোমানের বইয়ের সহায়তা নিতে পার। পরিশেষে তোমাদের আশানুরূপ পরীক্ষার ফল কামনা করছি।