হলে পরীক্ষার্থীরা © ফাইল ছবি
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। সারা দেশে এবার মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথম দিনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষা নেওয়া হবে। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় বসছে। বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে— ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
নির্দেশনাগুলো হলো—
১. পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ীই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
৩. প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা নেওয়া হবে; এ দুটির মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে সাত দিন আগে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। কেন্দ্র সেই নম্বর ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে যোগ করে বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে জমা দেবে।
৬. উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত পূরণ করতে হবে। কোনোভাবেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭. পরীক্ষার্থীদের সৃজনশীল বা তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী এবং ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে।
৮. নিবন্ধনপত্রে উল্লিখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না।
৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সব পরীক্ষার্থীর হাতে প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে; এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
আরও পড়ুন: পরীক্ষার আগের রাতেও মেলেনি এসএসসির এডমিট কার্ড, মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
১০. পরীক্ষার্থীরা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
১১. কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ, এমনকি পরীক্ষার্থীও, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
১২. সৃজনশীল, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক—সব পরীক্ষার জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে; এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পত্রিকা ও বোর্ডের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
এদিকে পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সাইবার নজরদারির মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস শনাক্ত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা নজরদারি করছি সাইবার ক্রাইমে, প্রশ্নপত্র যারা থানা থেকে নেবেন তারা কোনো ক্রাইম করছে কিনা, তাদের লিস্ট আমরা নিয়েছি। আমরা মনিটরিং সেল করেছি, এর মধ্যে কিছু হয় কিনা সেজন্য আমরা এগুলো খুব সুন্দরভাবে সবকিছু করেছি। আমরা একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করেছি। সেখানে ডিসি ইউএনওসহ সবাই থাকছেন।
তিনি আরও বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ যেটা রয়েছে সেটাকে আমরা কয়েকদিনের মধ্যে ‘ল’ মিনিস্ট্রিতে পাঠানো হয়েছে। এই আইনে ডিজিটাল ক্রাইমের কথা ছিলো না। এগুলো ইনক্লুড করা হয়েছে। এবং পরীক্ষার যে ফিনেশন সেটা বদলানো হয়েছে। মেট্রিম ও ইন্টার ছিলো আগে অন্যান্য পরীক্ষা ছিলো না।
খাতা দেখার সময় মানবিক নম্বরের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, আমরা যেটা করছি সেটা হলো আমাদের বোর্ডের পরীক্ষকদের খাতা দেখার জন্য এনাফ সময় দেয়া হচ্ছে। খাতা দেখার পদ্ধতি সঠিক আছে কিনা সেগুলো আমরা আলোচনায় এনেছি। না, আমরা এমন কোনো ইনট্রাকশন দেইনি যে মানবিক নম্বর দেবে।