গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো © সংগৃহীত
এমপিওভুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) বদলি নীতিমালা ও সফটওয়্যার লাইভ হলেও মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদের জন্য তার দপ্তরে রয়েছে, মন্ত্রী অনুমোদনের পর তা ডাউন হবে এবং ১/২ দিনের মধ্যে জারি হবে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের কষ্ট লাঘবে ও স্থানাস্তরের বা বদলি প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি নীতিমালা করা হয়েছে। নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী খুব শিগগিরই অনুমোদন করবেন, পরে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে আসার পর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি ইস্যু এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এ ছাড়াও সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম শুরু হবে। মেমিস সফটওয়্যারের কাজ না হলে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজ করা হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এ সফটওয়্যারের আওতায় আসছেন। বদলি নীতিমালায় একজন শিক্ষক তার কর্মজীবনে তিনবার বদলি হতে পারবেন, তবে বদলি হতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কমিটির অনুমোদন লাগবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বদলি নীতিমালা করেছে সরকার। এতে শিক্ষকদের নিজ এলাকায় বদলির পথ সুগম হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ও সফটওয়্যার লাইভ হওয়ায় বদলির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। তবে এক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষকরা উপেক্ষিত ছিলেন। অবশেষে তাদের বদলি নীতিমালাও ফাইনাল হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে গত ২০ এপ্রিল এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) শূন্য পদের জন্য তথ্যাদি প্রেরণের সফটওয়্যার বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এক নোটিশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, শূন্য পদে তথ্যাদি প্রেরণের লিংক, সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন কাজ শেষ হলে নতুন সময়সূচি নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশ প্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণের বদলির জন্য শূন্য পদে তথ্যাদি প্রেরণ প্রসঙ্গে নোটিশ মাদ্রাসা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) শূন্য পদে বদলির জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ফাইনালের পর সফটওয়্যার আপডেট করে কার্যক্রম শুরু হবে।’
তারা বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসলেই কাজ শুরু করতে পারব। বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকরা যখন আবেদন দেবেন, তখন তা নিয়মমাফিক হবে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসতে হবে।’
শিক্ষামন্ত্রণালয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি ফাইল শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে রয়েছে, খুব শিগগিরই তা করবেন, তিনি ফাইল পেলেই দেরি করবেন না আশা প্রকাশ করে বলেন, ফাইল সইয়ের পর ডাউন হবে এবং ১/২ দিনের মধ্যে চিঠি ইস্যু ও নির্দেশনাসহ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।’
উল্লেখ্য, দেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ৮ হাজার ২২৯টি। এরমধ্যে দাখিল-আলিম-ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৬৭; ১ হাজার ২৮৫টি; ফাযিল ৯৯৩টি ও ১৮৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।