বোর্ডের লোগো © সংগৃহীত
বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে ১৪৪৭ হিজরি (২০২৬) সালের দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এবার ছাত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে দেশসেরা হয়েছেন ঢাকার সূত্রাপুরের মাদ্রাসা বায়তুল উলূম ঢালকানগরের শিক্ষার্থী খালেদ হাছান। তিনি মোট ৯৩২ নম্বর অর্জন করে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অন্যদিকে ছাত্রীদের মধ্যে ৮৯৪ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন ঢাকার রামপুরার ফাতেমাতুয যাহরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আসমা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটি, পরীক্ষা মনিটরিং সেল, পরীক্ষা উপকমিটি ও নিরীক্ষকবৃন্দ। এতে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান যাত্রাবাড়ী।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন চট্টগ্রামের পটিয়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়ার মো. আব্বাস, যার প্রাপ্ত নম্বর ৯২৮। ৯২৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার মুতাসিম বিল্লাহ এবং মাদ্রাসা বায়তুল উলূম ঢালকানগরের মুহা. আবু রায়হান।
অন্যদিকে ছাত্রীদের মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারীর দারুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার মোছা. ফাতিমাতুয যাহরা, যিনি পেয়েছেন ৮৮৩ নম্বর। তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন ঢাকার উত্তরা-১০ এলাকার আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়ার তাহসিনা সিদ্দীকা মারিয়া, যার প্রাপ্ত নম্বর ৮৮১।
সার্বিকভাবে এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৩ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী এর মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ২৬৮ জন এবং ছাত্রী ৮ হাজার ৬১৩ জন। দেশের ১০৪টি ছাত্র এবং ১৫৫টি ছাত্রী মারকাজে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, মোট ২১ হাজার ৪৯১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ২ হাজার ৩৯০ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ১৪ হাজার ১৮৬ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ৩০৫ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৯২.৯১ শতাংশ, ছাত্রীদের পাসের হার ৮৪.৮১ শতাংশ এবং গড় পাসের হার ৮৯.৯৯ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে মুমতাজ (স্টার) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ১ হাজার ৪৭৮ জন এবং ছাত্রী ৯৭ জন। জায়্যিদ জিদ্দান (প্রথম) বিভাগে ছাত্র ৪ হাজার ৫৫৯ জন ও ছাত্রী ১ হাজার ১৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
জায়্যিদ (দ্বিতীয়) বিভাগে ছাত্র ৫ হাজার ৮০২ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৪৮৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া মাকবুল (তৃতীয়) বিভাগে ছাত্র ২ হাজার ৩৪৭ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৫৭২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অনিয়মের কারণে ২০ জনের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথকভাবে মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রতি ৫০০ জনে একজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সে হিসেবে ছাত্রদের ক্ষেত্রে ৩১তম এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ১৭তম পর্যন্ত মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।