শিশু রামিসা হত্যা
আদালতে উঠানোর সময় আসামি সোহেল রানা © সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। এর মধ্যদিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ আদেশ দেন।
এদিন সকালে আসামি সোহেল রানাকে আদালতে উঠানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি একা দোষী না। সব দোষ ডলারের। আমি মারিনি। ধর্ষণ করছেও ডলার, মারছেও ডলার। এসময় ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা। আমি ধর্ষণ করিনি।’
তবে সরকার নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে বলেন, আমি আসামির সাথে কথা বলেছি। আসামিরা আমার কাছে ডলার সম্পর্কে কিছুই বলেনি। আসামিরা বলেছে, তারা নির্দোষ। ডিএনএ রিপোর্টে আসামির বির্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। সাক্ষ্য প্রমাণে আমরা ন্যায় বিচার পাবো। এসময় ডলার সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, পুলিশ রিপোর্টে ডলারের নাম নেই। আমার কাছেও আসামিরা ডলার সম্পর্কেও কিছু বলেনি।
এদিন শুনানি শেষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে দায়িত্ব পালন করব। বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নিবেন।’ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কথা বলছি না। শুধুমাত্র এ মামলায় নিজের প্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করব। আদালতকে আমরা চার্জশিট থেকে প্রাপ্ত তথ্য শুনানিতে বলেছি। আসামিরা দায় অস্বীকার করায় আগামীকাল সাক্ষ্য শুনানি ধার্য করেছেন।
তবে আসামি সোহেল রানা আজ আদালত প্রাঙ্গণে ডলারের নাম বললেও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান বলেন, আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেছি। তবে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এটি তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা হতে পারে, অথবা তার ব্যক্তিগত শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ।
এর আগে রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
ওই দিনই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এস আই অহিদুজ্জামান আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগ পত্রে বলা হয় , সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও এ মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাকে ধর্ষণের আলামতও মিলেছে।