২৪ জুলাই: ইন্টারনেট ফিরতেই প্রকাশ পায় সহিংসতার চিত্র, শুরু হয় গণগ্রেপ্তার

২৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮ PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের বাঁধা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের বাঁধা © টিডিসি ফাইল ছবি

সারাদেশে টানা পাঁচ দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হয়। ইন্টারনেট চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি। এসব দৃশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রকাশ্যে গুলি, ছাদে থাকা কিশোরকে গুলি করা, সড়কে চলাচলরত তরুণকে গুলি, রাজপথে হামলা এবং হেলিকপ্টার থেকে রাবার বুলেট ছোড়ার মতো দৃশ্য দেখা যায়। এসব দেখে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়তে থাকে।

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে ওই দিন সকাল ১১টা থেকে চার ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। এ সময় সরকার সমর্থকরা আন্দোলনকারীদের সহিংসতার পাশাপাশি মেট্রোরেল, সেতু ভবন ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে হামলার বিষয়টি সামনে আনেন। একই সময়ে সরকার সমর্থক কিছু বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, আমলা, শিল্পী ও সাংবাদিক আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে শুরু হয় ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আটক করা হয়।

সীমিত সময়ের জন্য খুলে দেওয়া হয় অফিস-ব্যাংক
১৯ জুলাই থেকে টানা বন্ধ থাকার পর সরকারি নির্বাহী আদেশে ২৪ জুলাই সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংক চালু রাখা হয়।

কারফিউ শিথিলের সুযোগে জরুরি প্রয়োজনে মানুষ রাস্তায় বের হলেও গণপরিবহন সংকট ছিল তীব্র। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রবেশমুখে, বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ও সাভার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের থেমে থেমে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার প্রায় দেড় হাজার
সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ২৪ জুলাই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ৬৪১ জনকে।

পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করতে চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশ ছিলেন বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং শিক্ষার্থী।

সন্ধান মেলে তিন সমন্বয়কের
এদিকে, ১৯ জুলাই থেকে নিখোঁজ থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম তিন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদের সন্ধান পাওয়া যায় ২৪ জুলাই। তাদের চোখ বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত স্থানে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অন্যদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন : ১২ প্রতিষ্ঠানে নতুন চেয়ারম্যান দিল সরকার

সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
২৪ জুলাই সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় তিনি বিটিভি ভবন, ডেটা সেন্টার ও মেট্রোরেল স্টেশনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির নিন্দা জানান। এসব ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ
ইন্টারনেট বন্ধ রাখা এবং শান্তিরক্ষী বাহিনীর লোগোসংবলিত যান ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ।সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। এদিকে, ছাত্র-জনতার চার দফা জরুরি দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার আলটিমেটাম বহাল রাখেন শিক্ষার্থীরা।

মাগুরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি, আবেদন ১০ সেপ…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
৯২ শিক্ষকের ৫৮ জন সনাক্ত, বাকিদেরও আওতায় আনতে কমিটি ঢাবি প…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
শত্রুতার জেরে কলাবাগানে কীটনাশক ছিটিয়ে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি, থ…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
ঢামেকসহ রাজধানীর ৪ মেডিকেলে ছাত্রদলের কমিটি, নেতৃত্বে যারা
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে রুবাইয়াত…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
জুলাই জাদুঘরের নিদর্শন নষ্ট করলে ১০ বছরের জেল
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬