প্রতীকী ছবি © ফাইল ফটো
বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব। এখানে শুধুই একাডেমিক মেধা কিংবা সনদ দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়। এই বিশ্বে নিজেকে প্রমাণ করতে প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা। ভালো ফলাফল, কাঙ্ক্ষিত চাকরি কিংবা নেতৃত্বের অবস্থানে পৌঁছাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে যোগাযোগ দক্ষতা (কমিউনিকেশন স্কিল)। মানুষ যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে অন্যের কাছে প্রকাশ করে। নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষা, কর্মপরিকল্পনা বা দক্ষতা-যোগ্যতার প্রমাণ তুলে ধরতেও দরকার এই দক্ষতা। চাকরিদাতা, উদ্যোক্তা, পেশাজীবীসহ সকলেই একমত যিনি নিজের চিন্তা, ধারণা স্পষ্টভাবে অন্যের নিকট তুলে ধরতে পারেন, অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন, তিনিই কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকেন ও এগিয়ে যান। নিচে যোগাযোগে দক্ষ হয়ে ওঠার ১০টি কার্যকরী কৌশল তুলে ধরা হলো—
যোগাযোগের সব ধরনে সাবলীল হওয়া
আমরা প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকি। যোগাযোগ শুধু মুখে কথা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শোনা, বলা, পড়া, লেখা ও উপস্থাপন এই সবগুলো ক্ষেত্রেই দক্ষতা প্রয়োজন। একাডেমিক ও পেশাগত জীবনে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় পরিষ্কারভাবে ভাব প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুললে যোগাযোগে দক্ষ হয়ে ওঠা সম্ভব।
মনোযোগী শ্রোতা হওয়া
ভালো যোগাযোগের প্রথম শর্ত হলো অন্যের কথা ভালোভাবে শোনা। অন্যরা কি বলছে, কেন বলছে এবং কোন প্রেক্ষাপটে কথা বলছে এসব বোঝার চেষ্টা করা। প্রয়োজনে কোনো কিছু না বুঝে থাকলে প্রশ্ন করা, মাথা নেড়ে সম্মতি দেওয়া কিংবা সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে বোঝানো।
নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা
বিভিন্ন ধরনের বই, পত্রিকা, সাময়িকী ও মানসম্মত অনলাইন জার্নাল পড়লে ভাষা ও চিন্তার গভীরতা বাড়ে। এর জন্য যখনই কোনো লেখা পড়ছেন, মাথায় ‘ফাইভ ডব্লিউ-এইচ’ সূত্রটি গেঁথে নিতে হবে। ফাইভ ডব্লিউ-এইচ হলো হু, হোয়াট, হোয়্যার, হোয়েন, হোয়াই ও হাউ। লেখাটি লেখক কেন লিখেছেন, কার জন্য লিখেছেন, কোন পরিপ্রেক্ষিতে লিখেছেন, কী কী বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, কোন কোন বিষয় যুক্ত করা যেতে পারে, আপনি লিখলে কীভাবে লিখতেন—এসব মাথায় দ্রুত এঁকে ফেলতে হবে। যত বেশি পড়বেন, যত জানবেন, কথা বলার সময় আপনি তত আত্মবিশ্বাস পাবেন।
ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে
শক্তিশালী যোগাযোগের জন্য প্রয়োজন সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার। সাহিত্য পাঠ, গান শোনা, উন্নতমানের চলচ্চিত্র দেখা এবং প্রতিদিন নতুন শব্দ শেখার মাধ্যমে ভাষার ওপর দখল বাড়ে। মনে রাখতে হবে—ভাষা যত সহজ, সাবলীল ও প্রাঞ্জল হবে, যোগাযোগ তত বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।
সাবলীলভাবে নিজেকে উপস্থাপনা
অনেকেই মনে করেন, কথা বলা আর এমন কী! কিন্তু আপনি যোগাযোগে দক্ষ তখনই প্রমাণিত হবে যখন আপনি সুন্দর করে কথা বলতে পারবেন। কথা বলার সময় মুখ এবং মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে। সবসময় গম্ভীর হয়ে থাকা কিংবা প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলার অভ্যাস দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার জন্য তাই বাড়াতে হবে আবেগীয় দক্ষতা। এক্ষেত্রে মনীষী বক্তাদের বক্তব্য অনুসরণ করলে উপকার পেতে পারেন।
নিয়মিত চর্চা করা
নতুন কোনো কিছু শিখতে হলে অনুশীলনের বিকল্প নেই। খেলোয়াড়েরা যেমন নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ান, তেমনি যোগাযোগ–দক্ষতাও প্রতিদিনের চর্চায় বৃদ্ধি পায়। ই–মেইল লেখা, দলীয় আলোচনা, সাধারণ কথোপকথন সব ক্ষেত্রেই সচেতনভাবে ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহারের চেষ্টা করুন।
ভুলকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ
মানুষ মাত্রই ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কথা বলতে গিয়ে জড়তা, ভুল শব্দচয়ন বা উপস্থাপনায় দুর্বলতা থাকতেই পারে। এসব নিয়ে হতাশ না হয়ে কোথায় আপনার ভুল হচ্ছে প্রথমে তা চিহ্নিত করুন এবং পরবর্তী সময়ে সংশোধনের চেষ্টা করুন। ভুল থেকেই শেখা যায়।
অবাচনিক যোগাযোগ বোঝা
মুখের অভিব্যক্তি, চোখের যোগাযোগ, হাতের ভঙ্গি ও দেহভাষা এসবই যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক সময় শব্দের চেয়েও শরীরী ভাষা বেশি প্রভাব ফেলে। শ্রোতার প্রতিক্রিয়া বুঝে নিজের বক্তব্যের ধরন বদলানো একটি বড় দক্ষতা।
নিজেকে জানা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা
নিজের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন থাকলে যোগাযোগ আরও প্রভাবশালী হয়। ইতিবাচক মনোভাব, আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় করে এবং কথা বলার সময় স্বতঃস্ফূর্ততা এনে দেয়।
সুযোগ কাজে লাগান ও পরামর্শ গ্রহণ
সুযোগ পেলেই যোগাযোগ করা উচিত। বিতর্ক, বক্তৃতা, প্রেজেন্টেশন কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেকে শ্রোতা সামনে উপস্থাপন করা। শুরুতে ভুল কিংবা ভয় হলেও ধীরে ধীরে এটি ঠিক হয়ে যায়। এছাড়া প্রয়োজনে বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষক, সিনিয়রদের কাছ থেকে গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণ করা—এতে ভুল দ্রুত শুধরে নেওয়া যায়।