বায়তুল মোকাররম মসজিদ © সংগৃহীত
মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন শুক্রবার, যাকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং বিশেষ কিছু আমল নিজে পালন করতেন ও উম্মতকে তা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত দিন। (ইবনে মাজাহ: ১০৮৪) আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ছোট গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা হয়। (আবু দাউদ: ৩৪৭)
জুমার দিনের ১১ টি আমল
১. জুমার দিন গোসল করা। যাদের ওপর গোসল ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল (সা.) ওয়াজিব বলেছেন।
২. জুমার নামাজের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৩. মিসওয়াক করা।
৪. উত্তম পোশাক পরিধান করে সাধ্যমতো সাজসজ্জা করা।
৫. মুসল্লিদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা।
৬. মনোযোগ সহকারে খুত্বা শোনা এবং খুত্বা চলাকালীন চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব।
৭. আগে থেকেই মসজিদে যাওয়া।
৮. সম্ভব হলে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
৯. জুমার দিন ও জুমার রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
১০. নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস চেয়ে এ দিন বেশি বেশি দোয়া করা।
১১. কেউ খুৎবার সময় কথা বললে ‘চুপ করুন’ এতোটুকুও না বলা।
শুক্রবারের আরও কিছু আমল
১২. মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ-রসুন না খাওয়া ও ধূমপান না করা।
১৩. খুত্বার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা।
১৪. এতোটুকু জোরে আওয়াজ করে কোনো কিছু না পড়া যাতে অন্যের ইবাদত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে।
জুমার দিনের দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, এই দিনে এমন একটি সময় আছে যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছু চায়, তা কবুল করা হয়, যতক্ষণ না সে হারাম কিছু প্রার্থনা করে। (ইবনে মাজাহ: ৮৯৫)
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। (বায়হাকি) আরেক হাদিসে এসেছে, জুমার দিন দরুদ পাঠকারীর দরুদ নবী (সা.)-এর কাছে পেশ করা হয় এবং যে বেশি দরুদ পাঠ করে সে তাঁর অধিক নিকটবর্তী হয়। (বায়হাকি)
হাদিসে জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথাও উল্লেখ আছে—আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা, তাকে পৃথিবীতে নামানো, তার মৃত্যু সংঘটিত হওয়া, দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত থাকা এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া এই দিনেই হবে। (ইবনে মাজাহ: ৮৯৫)
আরও পড়ুন: জুমার দিনের ফজিলত পেতে যেসব সুন্নত ও আমল অবহেলা করবেন না
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর দ্বারা আলোকিত হয়। এছাড়া জিকির, তাসবিহ এবং দোয়ার মধ্য দিয়ে সময় কাটানোও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হাদিসে আরও এসেছে, জুমার দিন গোসল করে আগে মসজিদে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর রোজা ও এক বছর নামাজের সওয়াব দেওয়া হয়। (আবু দাউদ: ৩৪৫) আর যে ব্যক্তি প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে, তাকে উট কোরবানির সমান সওয়াব দেওয়া হয়; পরে আসার ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার সমান সওয়াবের কথা বলা হয়েছে। (সহিহ বুখারি: ৮৪১)
জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আসরের পরের সময়কে বিশেষভাবে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে, কারণ এই সময়ে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি। (আবু দাউদ: ১০৪৮)
সব মিলিয়ে, জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ইবাদত, দোয়া, দরুদ ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। এই দিনের প্রতিটি আমল আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং গুনাহ মাফের বিশেষ মাধ্যম হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।