জুমার নামাজ ছেড়ে দিলে পেতে হবে যে দুই শাস্তি

২৬ জুন ২০২৬, ১২:০২ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি এআই জেনারেটেড

টানা তিনটি জুমার নামাজ অবহেলা করে ছেড়ে দিলে একজন মুসলমানকে দুটি কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেন, হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি গাফলতি করে পরপর তিনটি জুমার নামাজ ত্যাগ করে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন এবং তাকে মুনাফিকদের তালিকাভুক্ত করে দেন।

এক মাহফিলে জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে আজহারী বলেন, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অবহেলা করে টানা তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ এর অর্থ হলো, ধীরে ধীরে তার হৃদয় থেকে ঈমানি অনুভূতি দুর্বল হয়ে যেতে থাকে। ভালো কথা, নামাজ, আজান কিংবা ইসলামের শিক্ষা তার কাছে আর আকর্ষণীয় মনে হয় না। বরং গান-বাজনা, আনন্দ-উল্লাস ও দুনিয়াবি ভোগ-বিলাসের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে।

তিনি বলেন, তিনটি জুমা ত্যাগের দ্বিতীয় শাস্তি হলো ওই ব্যক্তির নাম মুনাফিকদের খাতায় লেখা হয়। হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এজন্য মুসলমানদের উচিত কোনোভাবেই জুমার নামাজকে অবহেলা না করা।

জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে আজহারী কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনের নামাজের জন্য যখন আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করে দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝতে পারো।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এখানে ‘আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও’ বলতে জুমার খুতবা ও নামাজে অংশগ্রহণের কথা বোঝানো হয়েছে। তাই জুমার আজান হওয়ার পর দুনিয়াবি কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো ব্যস্ততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়।

আজহারী বলেন, অনেকেই মনে করেন ‘ধাবিত হও’ অর্থ দৌড়ে মসজিদে যাওয়া। কিন্তু ইসলামে নামাজে যাওয়ার সময় দৌড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশ্বনবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, নামাজ শুরু হয়ে গেলেও ধীরস্থিরভাবে মসজিদে যেতে হবে। যতটুকু নামাজ পাওয়া যায় তা আদায় করতে হবে এবং যা ছুটে যাবে তা পরে পূরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুমার খুতবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনে খুতবাকে ‘জিকরুল্লাহ’ বা আল্লাহর স্মরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য জুমার নামাজ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনাও অত্যন্ত জরুরি।

খতিবদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুমার খুতবা শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি মানুষকে শিক্ষা দেওয়া, সমাজের সমস্যা তুলে ধরা এবং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্বনবী (সা.) মদিনা জীবনে ১০ বছরে ৫০০টিরও বেশি জুমার খুতবা দিয়েছেন এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

মুসল্লিদের উদ্দেশে আজহারী বলেন, জুমার দিন আগে আগে মসজিদে আসা, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। তিনি সবাইকে জুমার নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

আধিপত্য বিস্তারের জেরে পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আ…
  • ২৬ জুন ২০২৬
উত্তপ্ত হরমুজ, ফের বাড়ল তেলের দাম
  • ২৬ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের ডাগআউটে আর্জেন্টিনার রাজত্ব, ব্রাজিলের নেই কেউ
  • ২৬ জুন ২০২৬
যে তিন দোয়া জুমার দিন বেশি বেশি পড়বেন
  • ২৬ জুন ২০২৬
১৬ দফার যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করবে বাংলাদেশ-চীন
  • ২৬ জুন ২০২৬
‘১ জুলাই থেকেই শতভাগ মূল বেতন একবারে চাই’
  • ২৬ জুন ২০২৬