ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলছেন তারেক রহমান © সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গৌরবময় এই জয়ের পর ভিডিও কলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় দলের সাফল্যে দেশ ও জাতির আনন্দের কথাও খেলোয়াড়দের জানান প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার (১৬ আগস্ট) পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজধানী ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পথেই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের খবর পান তিনি। খবর পাওয়ার পরপরই ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান।
ভিডিও কলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ, মুশফিকুর রহিমসহ দলের একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও কলে যুক্ত ছিলেন।
আলোচনায় মাঝেই এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করা হয়। বিশেষ করে হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেট শিকার এবং প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত শতকের বিষয়টি তুলে ধরেন বিসিবিপ্রধান। এ সময় বিসিবি সভাপতি ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
তারেক রহমানের বাড়ি বগুড়ায়, তানজিদেরও বাড়ি একই জেলায়। সেই কথাই প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখ করেন বিসিবিপ্রধান। তানজিদের সঙ্গে তারেক রহমান কথা বলার সময় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হস্তক্ষেপ করে বলেন, ‘ও তানজিদ হাসান, বগুড়ার ছেলে, সেঞ্চুরি করেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিসিবি সভাপতিকে সংশোধন করে দিয়ে বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। সে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, বগুড়াকে না।’
এ সময় দেশের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থা ও সেখানকার আবহাওয়া সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। ঐতিহাসিক এই জয়ে দলের সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে আবারও অভিনন্দন জানান তিনি।
ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের স্বাগত জানানোর জন্য। সবার শরীর ভালো আছে তো? একটু (ক্লান্তি) হবে স্বাভাবিক। গরম কেমন ওখানে? ভালো গরম? দেশের মতো? আসেন আপনারা সুস্থভাবে। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।‘
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।‘
উল্লেখ্য, ডারউইনে পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দেশটির মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে এমন ইতিহাস লিখেছে লাল-সবুজেরা।
প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করলে লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান। যেখানে তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪, আর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের দৃঢ়তা বাংলাদেশকে ম্যাচের চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। এর মধ্যে তানজিদের শতকটি আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশির প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
এর আগে, প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান খরচায় বল হাতে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরাও। দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের ৫ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধের শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দেয়। ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত ১০৪ রানের লড়াইও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে বাঁচাতে পারেনি। পরে ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সহজ জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।