ইতিকাফে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগ 

১০ মার্চ ২০২৬, ১১:১৮ AM , আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:২৯ AM
ইতেকাফকারী ব্যাক্তি

ইতেকাফকারী ব্যাক্তি © সংগৃহীত

মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র মাহে রমজান। হাদিসে বর্ণিত আছে রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ দশ দিন নাজাতের জন্য নির্ধারিত। তবে এ মাসের শেষ দশ দিন সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এ সময় মুমিন বান্দারা ইতিকাফের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ পান। ইতিকাফ মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট করে এবং তার সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ইতিকাফ কী
ইতিকাফ শব্দের অর্থ হলো অবস্থান করা বা নিজেকে আবদ্ধ রাখা। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে মশগুল থাকাকে ইতিকাফ বলা হয়। সাধারণত রমজানের শেষ দশকে এই ইবাদত পালন করা হয়। ইতিকাফের মাধ্যমে একজন মুসলমান পার্থিব জীবন থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, দোয়া ও আত্মসমালোচনায় সময় কাটান। ফলে তাঁর আত্মিক পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

ইসলামে ইতিকাফের গুরুত্ব
ইতিকাফ ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আমল। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতি বছরই এই ইবাদত পালন করেছেন।

রমজানের শেষ দশকেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। এই রাত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। ইতিকাফের মাধ্যমে একজন মুসলমান সহজেই এই মহিমান্বিত রাত লাভের সুযোগ পান।

আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনার সুযোগ
ইতিকাফ কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের একটি বিশেষ অনুশীলন। এই সময় একজন মুসলমান নিজের ভুলত্রুটি নিয়ে ভাবার সুযোগ পান এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি পার্থিব ব্যস্ততা, সামাজিক যোগাযোগ বা দৈনন্দিন দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থেকে মানুষ নিজের আত্মার দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন। ফলে মানসিক প্রশান্তি লাভের পাশাপাশি ইমানও শক্তিশালী হয়।

ইতিকাফের গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।’ (সূরা বাকারা: ১২৫)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও নিয়মিত ইতিকাফ পালন করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি বলেছেন, 'মসজিদ মুত্তাকিদের ঘর। যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করবে, আল্লাহ তার ওপর শান্তি ও রহমত নাজিল করবেন এবং পুলসিরাত অতিক্রম করে জান্নাতে পৌঁছার দায়িত্ব নেবেন।'

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রতি রমজানেই রাসূলুল্লাহ (সা.) দশদিন ইতিকাফ করতেন। তবে যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)। অপর এক বর্ণনায় হযরত ইবনে উমার (রা.) বলেন, রমজানের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইতিকাফ করতেন।” (সহিহ মুসলিম: ১১৭১)।

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার প্রতি যা ফরজ করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করে। আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে উপর্যুপরি আমার নৈকট্য হাসিল করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি তাকে ভালোবাসি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি তখন আমি তার কর্ণ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমি তার চক্ষু হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যে পা দিয়ে সে চলাফেরা করে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করে আমি তাকে তা প্রদান করি। সে যদি আমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, আমি তাকে আশ্রয় দেই। [সহিহ বুখারী (৬৫০২)]

পরিশেষে ইতিকাফ মুসলমানদের জন্য আত্মিক উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। রমজানের শেষ দশকে এই ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ পার্থিব জীবন থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ পান। তাই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের গুরুত্ব অনুধাবন করে তা পালনে সচেষ্ট হওয়া।

হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু ও মদ জব্দ
  • ১০ মার্চ ২০২৬
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: প্র…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
ভ্রমণসঙ্গীর মধ্যে এই ৩ গুণ না থাকলে ঘুরতে যাবেন না
  • ১০ মার্চ ২০২৬
ভুলক্রমে ট্রেনে উঠে পড়েছিল শিশু আব্দুল্লাহ, অতঃপর পেরোল ৮ ম…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
ডালডা-ইউরিয়া ও ডিটারজেন্ট দিয়ে নকল দুধ-ঘি তৈরি, ৩ প্রতিষ্ঠা…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
স্ত্রীসহ ওয়াসার সাবেক এমডি আব্দুস সালামের দেশত্যাগে নিষেধাজ…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
close