বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন ভাঙবে অনেকের

০৭ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১৬ PM
পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীরা © ফাইল ফটো

চলমান করোনাভাইরাসের কারণে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার্থীর বিগত জেএসসি এবং এসএসসির ফলাফল বিশ্লেষণ করে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই এইচএসসির গ্রেড দিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়। এদিকে পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করায় বিগত বোর্ড পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করা অনেক শিক্ষার্থীর দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ এবং মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্ন ভাঙার আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সহ দেশের প্রথম সারির উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক প্রতিষ্ঠানে ফরম তোলার যোগ্যতা হিসেবে জিপিএ-৫ চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ পায়নি তারা এই সব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ হারাবে।

তারা বলছেন, যে পরীক্ষার্থী জেএসসি-এসএসসিতে জিপিএ-৪ পেল, তার প্রাপ্ত গ্রেডের গড় করে এইচএসসি জিপিএ-৪ পাবে। এটি একজন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্চুকের জন্য অন্তরায় হতে পারে। কেননা সেই পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন যোগ্যতায় এগিয়ে থাকতে পারে। শিক্ষার্থীরা ০.০২৫ পয়েন্ট ব্যবধানে যেখানে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এসএসসি ও এইচএসসি ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত জিপিএ ভিত্তিক পয়েন্টের এমন ফাঁরাক একজন পরীক্ষার্থীকে অনেক পিছিয়ে রাখবে।

তথ্যমতে, বুয়েটে ভর্তির আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিত, পদার্থ, রসায়ন বিষয়ের প্রত্যেকটিতে আলাদা করে জিপিএ-৫ পেতে হয়। ইংরেজি এবং বাংলায় আলাদাভাবে সর্বনিম্ন ৪ পয়েন্ট করে পেতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীকে সব মিলিয়ে ৮ (বিজ্ঞান বিভাগ) পেতে হয়। তাই কোনো শিক্ষার্থী যদি এসএসসিতে জিপিএ ৪ অথবা সাড়ে ৩ পেয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে তিনি ভর্তির ফরমই তুলতে পারবেন না।

অন্যদিকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত গ্রেড ভর্তি পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফলের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। কেননা মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর এসএসসি এবং এইচএসসির প্রাপ্ত গ্রেডের উপরই থাকে ১০০ নম্বর। তারমধ্যে এইচএসসির জন্য বরাদ্দ থাকে ৬০ নম্বর। এইচএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত গ্রেডকে ১২ দিয়ে গুন করে এই নম্বর নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি-এইচএসসির ফলের উপর থাকে ৮০ নম্বর। এর মধ্যে এইচএসসির জন্য বরাদ্দ থাকে ৫০ আর এসএসসির জন্য থাকে ৩০ নম্বর। ফলে যারা এসএসসিতে কোনো কারণে ভালো ফল করতে পারেননি তাদের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির স্বপ্ন ভাঙতে চলেছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মোমেন আলী বিজ্ঞান স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মারুফা আকতার মিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম। তবে শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণায় আমি মর্মাহত হয়েছি। কেননা আমার জেএসসির ফল ভালো হলেও এসএসসির ফল খারাপ। পরিবারের ইচ্ছা ছিল আমাকে মেডিকেলে পড়াবে। তবে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার গড় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে।

তবে এই পদ্ধতিতে মূল্যায়নের কারণে শিক্ষার্থীদের খুব একটা ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, এবার যেহেতু মূল্যায়নটা চেঞ্জ হয়ে গেল, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যখন তাদের ভর্তির নিয়ম-কানুনগুলো ঠিক করবে তখন নিশ্চয়ই এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করবে। আমার মনে হয় সেদিক থেকে অসুবিধা হওয়ার কথা না। করণে ছেলেমেয়েরা হয়তো কেউ জেএসসিতে খারাপ করেছে আবার এএসসিতে ভালো করেছে। কেউ এসএসসিতে খারাপ করেছে জেএসসিতে ভালো করেছিল। এইচএসসি দিয়ে কেউ হয়তো আগের রেজাল্টের চেয়ে ভালো করতো, আবার কেউ হয়তো খারাপও করতো। এই ভালো-খারাপের বিষয়টা সবসময়ই অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকবে।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ভার্চুয়াল বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেসহ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের বিশেষজ্ঞ টিমের সাথে আলোচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এইচএসসি পরীক্ষার সাথে ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী, তাদের পরিবার এবং শিক্ষকরা মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ জড়িত থাকবেন। তাদের আমরা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না। এ অবস্থায় আমরা এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করছি। পরীক্ষার্থীদের জেএসসি-এসএসসি ফল বিশ্লেষন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই এইচএসসির গ্রেড দেয়া হবে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে চাই।

করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুচ্ছ বা সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তির আশা ব্যক্ত করে ডা. দীপু মনি বলেন, আমরা আশা করছি এবার সমন্বিত পদ্ধতিতে সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিতে পারবো। পরীক্ষাগুলো গুচ্ছ বা সমন্বিত পদ্ধতিতে কীভাবে হবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এবং তখনকার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তার নিশ্চয়তা নেই। কখন পরীক্ষা নেয়া যাবে বলা কঠিন। এরমধ্যে যথার্থতা বজায় রাখার বিষয়টি ভাবতে হবে। পরীক্ষা গ্রহণ করতে ৩০ থেকে ৩২ কর্মদিবস প্রয়োজন হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে এক বেঞ্চে দুজন বসানো সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে দ্বিগুন কেন্দ্র প্রয়োজন হবে। প্রশ্নপত্র প্যাকেটজাত করা হয়। নতুন প্যাকেট করারও সুযোগ নেই।

মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র দ্বিগুন করলে আরও জনবল প্রয়োজন হবে। প্রশাসনসহ সবার জনবল বাড়ানো প্রয়োজন রয়েছে। বিষয় কমানো হয়তো যায়, কিন্তু প্রতিটি বিষয়ের গুরুত্ব রয়েছে। অনেকে এতে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করতে পারবে। কোভিড আক্রান্ত হলে তখন কী হবে। এ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি। ভারতের পরীক্ষাও আমরা দেখেছি। তিনটি পরীক্ষা নেয়ার পর তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অনেক দেশে পরীক্ষা বাতিল কিংবা স্থগিত করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপনাদের সময় জানিয়ে দেব। যখন সময় হবে, তখন বিস্তারিত জানানো হবে। আজ (মঙ্গলবার) জানাতে পারব না। কাল হয়তো আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।’

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ছয় মাস আগে বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থগিত হয়ে গেছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও। এরমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও এক দফা বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর করা হয়েছে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকার ছাড়াও উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এ অবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার তোড়জোড় শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ১ এপ্রিল চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও করোনার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এবার ১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য প্রায় দুই হাজার ৫০০ কেন্দ্রে প্রস্তুত করেছিল ১১টি শিক্ষা বোর্ড। তবে করোনার কারণে এখন প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ হাজার কেন্দ্র প্রয়োজন হবে।

প্রসঙ্গত, এবার এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে নিয়মিত ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৮১ এবং অনিয়মিত ২ লাখ ৬৬ হাজার ২০৮ জন। এদের মধ্যেএক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল এক লাখ ৬০ হাজার ৯২৯ জন। আর দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ২২৪ জন। এক বিষয়েও পাশ করতে পারেননি এমন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৩৪১ জন। প্রাইভেট পরীক্ষার্থী ৩ হাজার ৩৯০ এবং খারাপ ফলের কারণে ১৬ হাজার ৭২৭ জন পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল।

ট্রাম্পের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে সতর্ক হতে বললেন মার্কিন সিনেটর
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিয…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের সমালোচনা করায় নারী কর্মী আটক, ‘অগণতান্ত্রিক আচরণ’ আ…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করে নিতাম, কিন্তু আমেরিকানরা চায়…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জকসুর
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
close