থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় চিকিৎসকদের দক্ষ করতে দেশব্যাপী বিশেষ সেমিনারের উদ্যোগ

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ PM
মুগদা মেডিকেলে সচেতনতামূলক সেশন

মুগদা মেডিকেলে সচেতনতামূলক সেশন © সংগৃহীত

দেশে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ মোকাবিলা এবং সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে চিকিৎসকদের আরও সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সেমিনারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ‘ফান্ডামেন্টালস অব থ্যালাসেমিয়া ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সেশনের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন ও মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে এবং জেনফার বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় এই সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের সব হাসপাতালেই এই সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ, যা বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। বাংলাদেশে জনগোষ্ঠীর প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এ রোগের বাহক এবং প্রতিবছর দেশে আনুমানিক ৬ থেকে ৮ হাজার থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু জন্মগ্রহণ করে। তবে সচেতনতা ও সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রীর হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না তা শনাক্ত করা যায়। দুজনই বাহক হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজিস্ট ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মনজুর মোরশেদ। তিনি থ্যালাসেমিয়ার মৌলিক ধারণা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তরুণ চিকিৎসকদের উদ্দেশে অধ্যাপক ডা. মনজুর মোরশেদ বলেন, বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার বিস্তার যে হারে বাড়ছে, সে তুলনায় রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। এ ঘাটতি পূরণে তরুণ চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশাজীবনের শুরু থেকেই বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দেওয়া এবং রোগীদের সঠিক চিকিৎসা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও নিয়মিত আয়রন চিলেশন থেরাপি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এতে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নেও অগ্রগতি সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মেজবাহুর রহমান এবং কলেজের উপাধ্যক্ষ ও অ্যাকাডেমিক সমন্বয়ক ডা. মুহাম্মদ মাহমুদ আলম। সেশনে সভাপতিত্ব করেন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। এ ছাড়া হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন (ব্লাড ব্যাংক) বিভাগের পক্ষ থেকে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন বিষয়ে একটি বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া, রোগ প্রতিরোধে বিয়ের আগে বাহক শনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আক্রান্ত রোগীদের নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, নিয়মিত আয়রন চিলেশন থেরাপি ও যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত করাই এ সেশনের মূল লক্ষ্য। চিকিৎসকদের কর্মজীবনের শুরুতেই এ বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষা ২ ডিসেম্…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
পাবনা ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ১০৭ জনে উত্তীর্ণ ১০৫, জিপিএ-৫ পেল…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
অ্যাসিস্ট্যান্ট রিলেশনশিপ অফিসার নিয়োগ দেবে ন্যাশনাল ব্যাংক…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছোট ভাই-বোনেরা, কোনোকালেই আমি এসএসসি-এইচএসসিতে A+ পাই নাই
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসিতে লক্ষ্মীপুরে সেরা প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ, পা…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার লক্ষ্যে ইউএফটিবি ও গো-প্লে…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬