প্রেস ব্রিফিংয়ে এনডিএফ নেতারা © টিডিসি
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস ও চিকিৎসকদের গৌরবোজ্জ্বল অবদানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে মাসব্যাপী ‘৩৬ জুলাই উদযাপন ২০২৬’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ইনসাফ, মেধা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ’— প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কর্মসূচির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটও উন্মোচন করা হয়েছে।
এনডিএফের আসন্ন ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে— জুলাই মেডিকেল কনফারেন্স, রান ফর জুলাই, কনটেন্ট ক্রিয়েশন প্রতিযোগিতা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, জুলাই বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী। আগামী ৯ আগস্ট ‘শহীদ আবু সাঈদ অডিটোরিয়ামে’ জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে জুলাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত ছবি, ভিডিও, প্রবন্ধ, কবিতা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জমা দিয়ে এই আর্কাইভে অংশ নেওয়ার বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, মাসব্যাপী এই আয়োজনে ১ থেকে ১৫ জুলাই নিবন্ধন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে। এরপর ১৭ থেকে ৩১ জুলাই চলবে মূল প্রতিযোগিতা ও ইভেন্ট (মেডিকেল কনফারেন্স, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন উৎসব ইত্যাদি)। এর মধ্যে জুলাইয়ের সর্বকনিষ্ঠ ৪ বছর বয়সী শহীদ আব্দুল আহাদের স্মরণে বিশেষ ‘কিডস ফেস্ট ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’ও থাকছে। ৯ আগস্ট সমাপনী অনুষ্ঠানে এনডিএফ ‘৩৬ জুলাই অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।
তারা আরও জানান, এই কর্মসূচির সকল ইভেন্টে চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে ‘রান ফর জুলাই’ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সঙ্গে যৌথভাবে।
সংবাদ সম্মেলনের সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি চিকিৎসক সমাজও সর্বাত্মক অবদান রেখেছে। চিকিৎসকেরা মাথার খুলি উড়ে যাওয়া, মস্তিষ্ক বের হয়ে আসা ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া গুরুতর আহতদের অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় চিকিৎসা দিয়ে বহু প্রাণ রক্ষা করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শুধু এনডিএফের উদ্যোগেই সে সময় আহতদের জন্য ৮৪ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছিল।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি ও দেশের অভ্যন্তরে নানা অস্থিতিশীলতার চেষ্টা আমরা লক্ষ্য করছি। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনকে টেকসই হতে না দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চিকিৎসক হিসেবে যতটুকু ভূমিকা রাখা সম্ভব, আমরা তা পালন করব। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে স্বৈরাচারবিরোধী চেতনা জাগ্রত রাখতে গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে এনডিএফের দপ্তর সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক বলেন, আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো ‘৩৬ জুলাই উদযাপন ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত মাসব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এবারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইতিহাস সংরক্ষণ করা, শহীদদের আত্মত্যাগকে যথাযথ সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ন্যায়বিচার, মেধা ও জাতীয় ঐক্যের মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়া।
জুলাই আন্দোলনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং তথ্য-নথি সংরক্ষণের অবদান যেন ইতিহাসে হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই এই মাসব্যাপী ম্যারাথন ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রেস ব্রিফিংকালে এনডিএফের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. আতিয়ার রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ডা. নুর উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।