হামের টিকা নিয়ে মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী

০১ মে ২০২৬, ০৮:৩৫ PM
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু © সংগৃহীত

অবশেষে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু। তিনি জানিয়েছেন, গ্যাভি-ভ্যাক্সিন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের হওয়া সিদ্ধান্তপত্রের অধীনেই চলমান হামের জরুরি ক্যাম্পেইনের টিকা দেশে এসেছে। একই সঙ্গে দেড় বছরে দুটি ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আজ শুক্রবার (১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। সম্প্রতি গণমাধ্যমে মার্কিন বিজ্ঞান জার্নাল ‘সায়েন্সে’ প্রকাশিত তার খণ্ডিত বক্তব্যের আলোকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান লিখেছেন, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করা হয়েছে’ শিরোনামে আজ Science-এর উল্লেখ করে ডেইলি স্টারে যে সংবাদটি প্রচারিত হয়েছে, সেটার দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রথমেই বলা দরকার যে Science-এ আমার বক্তব্য খণ্ডিত আকারে প্রকাশিত হয়েছে, যদিও আমি লিখিতভাবে খণ্ডিত অংশ প্রকাশের ফলে অস্পষ্টতার কারণে ভুল বুঝাবুঝির সম্ভাবনার কথা বলেছিলাম।

তিনি লিখেছেন, প্রথমেই স্পষ্ট করা দরকার যে ইপিআইয়ের নিয়মিত কর্মসূচির হামের টিকা সম্পুর্ণ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয় করা হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার যে, সরকার ইপিআইয়ের ৪টি টিকার সম্পুর্ণ অর্থ এবং অন্য টিকাগুলোর ক্ষেত্রে গ্যাভির পাশাপাশি আংশিক মূল্য (Cofinancing)  পরিশোধ করে থাকে। শুধুমাত্র নতুন টিকা শুরু করা এবং ক্যাম্পেইনের টিকা গ্যাভি সম্পুর্ণ মূল্য পরিশোধ করে। অর্থাৎ হামের টিকাসহ ৪টি টিকা সরকারের সম্পুর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে হয়, বিধায় এ সকল ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়ের নিয়মাবলী অনুসরণ করাই বাঞ্চনীয় ও যৌক্তিক।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের শিশুদের টিকা সংগ্রহে দৃঢ় অঙ্গীকারের নিদর্শন হচ্ছে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে টিকা ক্রয়ের জন্য পুর্বতন অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় ১০০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করেছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, গত মার্চ ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত গ্যাভির সাথে সিদ্ধান্তপত্রের অধীনেই বর্তমানে চলমান হাম ক্যাম্পেইনের টিকা দেশে এসেছে। আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরকালে দুটো নতুন টিকার ক্যাম্পেইন সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোন পরিবর্তন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয় করার ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা আছে এবং তদনুযায়ী এ ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া (ডিটিএম) অথবা উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) প্রক্রিয়া অনুসরণ করার নিয়ম আছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইপিআইয়ের জন্য টিকা ক্রয়ের অনুমতির অনুরোধ উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ এর ৬৮(১) উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় জরুরী প্রয়োজন বা জনস্বার্থে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় টিকা ক্রয়ের অনুমোদন দেয়।

আরও পড়ুন: ৬১ শতাংশ টিকাদান শেষ, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলায় কমেছে হাম

সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী লিখেছেন, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া শুরুর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পুর্ববর্তী বছরের অনুমোদনের সময়কালীন পর্যবেক্ষণ এবং আইনী বাধ্যবাধকতা অনুসরনের উল্লেখ থাকায় অনুরোধ প্রেরণের আগে যাচাই বাছাইয়ের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। যেহেতু ইপিআই একটি নিয়মিত জাতীয় কর্মসূচি— এটি প্রতি বছর জরুরি ধারা ব্যবহার করে চালানো ঠিক নয় বিবেচনায় টিকার আন্তর্জাতিক বাজার অনানুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে রাষ্ট্রীয় অর্থ সংস্থানের প্রাথমিক সম্ভাবনা দেখা যায়। এছাড়াও দীর্ঘদিন যাবত চলমান একটি কর্মসূচির জন্যে প্রয়োজনীয় টিকা ক্রয়ে পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে সরকারের নিজস্ব সামর্থ্য অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এমতাবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে টিকা ক্রয়ের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টিকা ক্রয়ের নিজস্ব সামর্থ্য অর্জন প্রয়োজনীয় বলেই সরকারের কাছে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু যেহেতু অন্তবর্তীকালীন সরকারের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল না, সে কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্তত সরকারি বরাদ্দের অর্ধেক অর্থাৎ ৪১৯ কোটি টাকা সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ক্রয়ের সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’র নিকট টিকা ক্রয়ের চলমান প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয়ের অনুমতির জন্য অনুরোধ করে এবং কমিটি সে অনুযায়ী অনুমতিও দান করে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, সরকারের রাজস্বখাতের বরাদ্দকৃত টাকার বাইরেও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকে কোভিড টিকার জন্য ঋণের অর্থ পুনঃব্যবহার করার অনুমতির মাধ্যমে প্রাপ্ত ৬০৯ কোটি টাকার ক্ষেত্রেও সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরন করে ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয়ের জন্য ক্রয়কারীকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমতি দান করা হয়। অতএব অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকা ক্রয় পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তন করা হয়নি এবং কোন পরিবর্তিত পদ্ধতিতে ইপিআইয়ের কোন টিকা ক্রয় করা হয়নি।

আরও পড়ুন: টিকা সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সরকারের টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া পরিবর্তন বা বন্ধ করা সম্পর্কে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান লিখেছেন, আমাদের উদ্বেগ ছিল— এই বিশেষ নিয়ম দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বা পক্ষপাতের ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে ইপিআইয়ের টিকা কেনা নিয়মিত ক্রয়ের জন্য উপযুক্ত, আইনসিদ্ধ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে করা উচিত। আবারো স্পষ্ট উল্লেখ করতে চাই যে ইপিআইয়ের কোনো টিকাই এখন পর্যন্ত ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে কেনা হয়নি। শুধুমাত্র প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছ ও যথাযথ ব্যবহারের ন্যায্য পদ্ধতি হিসেবে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া অথবা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি (এলওএ) পদ্ধতি অনুসরন করাই এ ধরনের নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদী ক্রয়ের জন্য পরবর্তীতে উপযুক্ত হবে বলে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে অভ্যন্তরীন পরামর্শ আকারে উল্লেখ করা হয়েছে, কোন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুও করা হয় নি।

তিনি লিখেছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের শিশুদের টিকা সংগ্রহে দৃঢ় অঙ্গীকারের নিদর্শন হচ্ছে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে টিকা ক্রয়ের জন্য পুর্বতন অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় ১০০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করেছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, গত মার্চ ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত গ্যাভির সাথে সিদ্ধান্তপত্রের অধীনেই বর্তমানে চলমান হাম ক্যাম্পেইনের টিকা দেশে এসেছে। আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরকালে দুটো নতুন টিকার ক্যাম্পেইন সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।

রক্ত-ঘামে গড়া সভ্যতা, তবু অবহেলার চাদরে ঢাকা শ্রমিকের মর্যা…
  • ০১ মে ২০২৬
সর্ম্পকের জেরে বিষাক্ত দ্রব্য খেয়ে রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয় …
  • ০১ মে ২০২৬
ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
  • ০১ মে ২০২৬
ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দম্পত…
  • ০১ মে ২০২৬
নাগরদোলা ভেঙ্গে আহত ৫ শিশুর মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজন
  • ০১ মে ২০২৬
বিধবার নারীর সম্পত্তি দখল, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্…
  • ০১ মে ২০২৬