মৎস্য প্রজেক্ট সংস্কারের অনুমতি নিয়ে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ, ডাম্প ট্রাক জব্দ

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ PM , আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৫ PM
ট্রাকে করে মৎস্য প্রজেক্ট থেকে ইটভাটায় মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ট্রাকে করে মৎস্য প্রজেক্ট থেকে ইটভাটায় মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মৎস্য প্রজেক্ট সংস্কারের অনুমতি নিয়ে দিনদুপুরে ইটভাটায় মাটি সরবরাহের অভিযোগে একটি ডাম্প ট্রাক আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকা থেকে ওই ডাম্প ট্রাকটি আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ওই মৎস্য প্রজেক্টের পাড়গুলোতে খননকৃত মাটি না দিয়ে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই প্রজেক্ট খননের সঙ্গে সম্পৃক্তরা টের পেয়ে যায় এবং একটি ডাম্প ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়। পরে আমরা সেটি আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে মো. হাসান উদ্দীন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি জোহাদিয়া মৎস্য প্রজেক্ট সংস্কারের অনুমতি পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। এরপর ইউএনও ওই প্রজেক্টটি পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসানকে দায়িত্ব দেন। পরে মৎস্য কর্মকর্তা প্রজেক্টটি পরিদর্শন করে ইউএনও'র নিকট একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোহাদিয়া মৎস্য প্রজেক্টের আয়তন ৩২০ শতক বা ৮ কানি। ইতঃপূর্বে সেখান থেকে মাটি কাটা হয়েছিল। আবেদনের সঙ্গে যে ট্রেড লাইসেন্সটি দেওয়া হয়েছিল সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এ ছাড়াও খতিয়ান অনুযায়ী ওই মৎস্য প্রজেক্টটির শ্রেণি কৃষি ও নাল। আবেদনকারী হাসান তার দেওয়া আবেদনপত্রে যাদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন খতিয়ানে তাদের নাম উল্লেখ নেই।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাখিলকৃত ওই প্রতিবেদনে বেশ কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও গত (১৩ এপ্রিল) ইউএনও বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৭(ক) ধারায় ৭টি শর্ত সাপেক্ষে (১৪ থেকে ২০ এপ্রিল) পর্যন্ত সর্বমোট ৭ দিন ওই মৎস্য প্রজেক্টটি সংস্কারের (খনন) অনুমতি প্রদান করেন। ওই অনুমতিপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলীর ৬ নম্বর ক্রমিকে খননকৃত মাটি কোথাও বিক্রি করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও পুরো বিষয়টি তদারকি করার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসানকে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং শর্তাবলির কোন ব্যত্যয় ঘটলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে, ইউএনও স্বাক্ষরিত ওই অনুমতিপত্রের নিচে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান ও সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হকের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ থাকলেও তদারকির দায়িত্ব পাওয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসানের নাম উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই মৎস্য প্রজেক্টটি সংস্কারের জন্য পরিদর্শন করে আমাকে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। আমি একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছিলাম। তবে পরে ওই মৎস্য প্রজেক্টটি সংস্কারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কিনা এটা আমার জানা নেই।’

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘মৎস্য প্রজেক্ট খননের কোন অনুমতিপত্রের অনুলিপি আমি হাতে পায়নি। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করা তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মৎস্য প্রজেক্ট সংস্কারের অনুমতি নেওয়া মো. হাসান উদ্দীন চৌধুরীর ফোনে যোগাযোগ করা হলে ইটভাটায় মাটি সরবরাহের অভিযোগটি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এখানে মাটি কাটা হচ্ছে না তবে মৎস্য প্রজেক্টে জাল টানার জন্য নিচের অংশ সমান করা করা হচ্ছে। এটা ২০১৪ সালে মৎস্য প্রজেক্ট করা হয়েছিল।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মো. হাসান উদ্দীন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই মৎস্য প্রজেক্টটি সংস্কারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে আবেদনকারী শর্ত ভঙ্গ করায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুমতিটি বাতিল করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন- ২০১০ এর ৭(ক) ধারায় বলা হয়েছে, উর্বর কৃষিজমি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি বিনষ্ট, পরিবেশ, প্রতিবেশ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সাধন এবং উক্ত জমিসহ পার্শ্ববর্তী অন্য জমির ক্ষতি, চ্যুতি বা ধসের আশঙ্কা থাকলে ড্রেজারের মাধ্যমে বা অন্য কোনো কৌশলী প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি হতে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবেনা। তবে কোনো ব্যক্তি তার বসতবাড়ি নির্মাণ বা স্বীয় প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতিক্রমে নিজ মালিকানাধীন ভূমি হতে সীমিত পরিসরে বালু বা মাটি উত্তোলন করতে পারবেন।

বিশ্বাস বিল্ডার্স নিয়োগ দেবে ফ্রন্ট ডেস্ক এক্সিকিউটিভ, আবে…
  • ১৮ মে ২০২৬
ধারেকাছেও নেই দুজন, শিক্ষায়-গবেষণায় ৭ জনই পিছিয়ে বিদায়ীদের …
  • ১৮ মে ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতক-স্নাতকোত্তরে পড়ুন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউ…
  • ১৮ মে ২০২৬
জানুয়ারিতে কাউন্সিলসহ আরও যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে এনসিপি
  • ১৮ মে ২০২৬
‘আমি ফেঁসে গেছি, তুমি কিন্তু ফেঁসে যেও না’— তিশার শেষ বার্তা
  • ১৮ মে ২০২৬
ঈদে পত্রিকা বন্ধ থাকবে ৫ দিন 
  • ১৮ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081