গোলটেবিল বৈঠকে তাসনিম জারা © টিডিসি ফটো
জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, পাবলিক হেলথ প্রফেশনাল, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং সাধারণ জনগণ এই তিনটি প্রধান গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত তথ্য ও ইনসাইট আদান-প্রদানের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মিল্টন হলে ‘হামের পুনঃআবির্ভাব: প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদিনের রোগ পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। সাসপেক্টেড, কনফার্মড কেস, জটিলতা ও মৃত্যুর হালনাগাদ তথ্য নিয়মিতভাবে পাওয়া গেলে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা আরও কার্যকর হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে, যেখানে দৈনিক ভিত্তিতে তথ্য শেয়ার করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে রোগের প্রবণতা বোঝা, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ শনাক্ত করা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করতে পারেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কখন বাসায় চিকিৎসা যথেষ্ট, কখন আইসোলেশন প্রয়োজন এবং কখন বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করা জরুরি।
জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে কখন সতর্ক হতে হবে, কীভাবে আইসোলেশন মানতে হবে এবং কীভাবে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে এসব বিষয়ে জনগণের কাছে স্পষ্ট ও নিয়মিত নির্দেশনা পৌঁছে দিতে হবে। এতে ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি কমবে এবং রোগ ছড়ানো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্যের অভাবে মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকিতে পড়ে। তাই বিজ্ঞানভিত্তিক ও সহজ ভাষায় স্বাস্থ্য বার্তা প্রচার করা অত্যন্ত জরুরি।
ডা. তাসনিম জারা আরও বলেন, একটি কার্যকর জনস্বাস্থ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে আউটব্রেক ব্যবস্থাপনা, টিকাদান কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা অনেক বেশি শক্তিশালী ও দ্রুততর হবে।