এডব্লিউসিএইচের পরিসংখ্যান

৩৫ লাখের মধ্যে ১৭ লাখ শিশুর জন্মই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে

২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৮ AM , আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৮ AM
সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের প্রতীকী ছবি

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের প্রতীকী ছবি © টিডিসি গ্রাফিক্স

দেশে গত বছরে (২০২৫ সালে) দেশে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ফলে প্রতি বছর পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যখাতে আন্তরিকতার অভাব এবং সরকারি পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতির কারণেই দেশে সন্তান জন্মদানে অস্ত্রোপচারের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হ্রাস সংক্রান্ত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘রিডিউসিং আননেসেসারি সিজারিয়ান সেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল (এডব্লিউসিএইচ)। অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাঈদুর রহমান বলেন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অনেক গাফিলতি আছে। দেশে শিশুজন্মে অস্ত্রোপচার অনেক বেশি হচ্ছে। ফলে মায়েরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। বাস্তবতা হলো দেশে এখন আর স্বাভাবিক প্রসব নেই বললেই চলে।

অধ্যাপক আনজুমান আরা বলেন, গত বছর (২০২৫ সালে) দেশে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক আনজুমান আরা। তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে ৫টি শিশুর জন্মের মধ্যে ১টির জন্ম হচ্ছে অস্ত্রোপচারে (প্রায় ২১ শতাংশ)। বাংলাদেশে এই হার অনেক বেশি। এখানে প্রতি ২টি শিশুর জন্মের মধ্যে প্রায় ১টি শিশুর জন্ম হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (প্রায় ৪৫-৫২ শতাংশ)। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সেখানে প্রতি ১০টি শিশুর জন্মের মধ্যে প্রায় ৮-৯টিই হচ্ছে অস্ত্রোপচারে (৮৫-৯০ শতাংশ)।

অধ্যাপক আনজুমান আরা বলেন, গত বছর (২০২৫ সালে) দেশে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গণভোট ব্যানার লাগানোর নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

২০১৮ সালের এক গবেষণার উল্লেখ করে আনজুমান আরা বলেন, বছরে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের কারণে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। দেশের বেসরকারি মাতৃসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বা মানসম্মত লেবার রুম (প্রসবকক্ষ) নেই। ফলে আর্থিক লাভকে অগ্রাধিকার দিয়ে অস্ত্রোপচারকে সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।

আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম বলেন, স্বাভাবিক প্রসবকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও যন্ত্রণাদায়ক হিসেবে উপস্থাপন করায় গর্ভধারিণী মায়েদের মধ্যে অযৌক্তিক ভয় তৈরি হয়। ১৯৯০ সালে মায়েরা মারা যেতেন অস্ত্রোপচার না করার জন্য, আর এখন অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারে করার জন্য তারা মারা যাচ্ছেন।

আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের চিকিৎসক ও গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক খুরশীদ তালুকদার বলেন, স্বাভাবিক প্রসবে সময় লাগে। কিন্তু অধিকাংশ রোগী ও চিকিৎসক এই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে চান না। প্রচলিত একটি ভুল ধারণা খণ্ডন করে তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন, স্বাভাবিক প্রসবের কারণে শিশুর মস্তিষ্কে ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু প্রসব-পূর্ব সেবা যথাযথ না হওয়ার কারণে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্ষতির প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটে প্রসবের আগে। আর প্রসবকালীন সমস্যার কারণে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয় ১০ শতাংশেরও কম।

স্বাভাবিক প্রসবের গুরুত্ব তুলে ধরে খুরশীদ তালুকদার বলেন, এই প্রক্রিয়া শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের শরীরের উপকারী জীবাণু বা মাইক্রোবায়োম শিশুর শরীরে স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম হলো স্বাভাবিক প্রসব এবং এতে জন্মের পরপরই মায়ের সঙ্গে শিশুর ‘স্কিন-টু-স্কিন’ কন্ট্যাক্ট ঘটে। অস্ত্রোপচারে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. আবু জাফর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের (এডব্লিউসিএইচ) চিকিৎসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন আহমেদ।

 

খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ঢাবিতে ছাত্রদলের ইফতার …
  • ১২ মার্চ ২০২৬
জাতীয় ছাত্রসভা নামে নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ
  • ১২ মার্চ ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুমকে রিডিংরুমে রূপান্তর করল হল সংসদ
  • ১২ মার্চ ২০২৬
ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে খামারবাড়িতে চাঁদাবাজি ও কর্মকর্তাকে …
  • ১২ মার্চ ২০২৬
এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার ও রাতের খাবারের আয়োজন ঢাবি ছা…
  • ১২ মার্চ ২০২৬
নিজের অস্ত্রের গুলিতে কোস্টগার্ড কর্মকর্তা নিহত
  • ১১ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081