সকালে বাসি পেটে পানি পান © সংগৃহীত
দীর্ঘ রাতের ঘুম শেষে সকালে ঘুম ভাঙার সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা পানিশূন্য থাকে। তাই দিনের শুরুতেই এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাসকে স্বাস্থ্যবিদরা উপকারী বলেছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই সহজ অভ্যাসটি শুধু যে রাতের পানিশূন্যতা দূর করে না পাশাপাশি দ্রুত শরীর সতেজ করতে, হজমপ্রক্রিয়া সক্রিয় রাখতে এবং সামগ্রিক মেটাবলিজম বজায় রাখতেও দারুণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সকালে পানি পানের এই অভ্যাস কতটা বিজ্ঞানসম্মত, এর প্রকৃত উপকারিতাই বা কী এবং কাদের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর?
পুষ্টিবিদদের মতে, ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর শুকিয়ে যায়। সকালে চোখ খোলার পরেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে দেহের তরলের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। এর ফলে ব্রেন ফগের সমস্যা কমে।
ঘুমের সময় শরীরে কী হয়?
ঘুমের মধ্যে কোনও খাবার বা পানীয় শরীরে যায় না। কিন্তু শরীর তার স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যায়। শ্বাস নেওয়া, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ, শরীরের ভিতর থেকে দূষিত পদার্থ বের করা সব কাজ নিজের গতিতে চলতেই থাকে। এই সব কাজের জন্য শরীর থেকে পানি বের হয়। ফলে সকালে ওঠার পর শরীর শুষ্ক অবস্থায় থাকে। তখন পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার বা অলস লাগতে পারে।
সকালে পানি খাওয়ার উপকারিতা
সকালে পানি করলে বেশকিছু উপকার পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি শরীরের ঘাটতি পূরণ করে, হজমক্রিয়ায় সাহায্য করে,
শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে, মন ও শরীর সতেজ হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ও অন্ত্রের কাজ উন্নত করে।
সতর্কতা
তবে সবার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পানের এই অভ্যাস একরকম উপকারী নাও হতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা বমিভাবের সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেশি পানি পান অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে পানি পান করাই ভালো।
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক থেকে দুই গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করাই যথেষ্ট। সব মিলিয়ে বলা যায়, সঠিক নিয়ম মেনে সকালে পানি পান একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে ভালো।