সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তি অনুভব করেন অনেকে © গুগল
অনেকে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তি অনুভব করেন। কিছুই যেন ভালো লাগে না, কাজে ঠিকমতো মনও বসতে চায় না। এটি আসলে ঘুমের সমস্যা ছাড়াও অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা কিংবা কিছু শারীরিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত এমনটা হলে অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কেন এমনটা হয়
ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা: স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি সমস্যা, যাতে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বা বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ঘুমের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয় এবং পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগতে পারে। জোরে নাক ডাকা, ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে থাকা এবং বিশ্রামের পরও অবসাদ অনুভব করা এর সম্ভাব্য লক্ষণ। এমন উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক না হওয়া: শোবার ঘরে অতিরিক্ত শব্দ, অস্বস্তিকর বিছানা কিংবা খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা পরিবেশ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয়ে সকালে ক্লান্তি থাকতে পারে। এ জন্য ঘুমানোর জায়গা শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখতে হবে।
পানিশূন্যতা: শরীরে পানির ঘাটতি হলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত পানি পান না করলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তৃষ্ণা ও শরীরের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।
ঘুমানোর আগে ভুল খাদ্যাভ্যাস: ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়া বা ক্যাফেইন গ্রহণ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে চা, কফি কিংবা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের প্রভাব অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা এবং বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত রাখা উপকারী হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। দুশ্চিন্তায় মন অস্থির থাকলে ঘুম আসতে দেরি হয় কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্তি থাকতে পারে। ঘুমানোর আগে ধীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান বা শিথিল হওয়ার কিছু অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
শারীরিক অসুস্থতা: থাইরয়েডের সমস্যা, বিষণ্ণতা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো কিছু শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যার কারণে সকালে অবসাদ থাকতে পারে। ক্লান্তির পাশাপাশি ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মেজাজের পরিবর্তন বা শরীরে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দীর্ঘ সময় মুঠোফোন ব্যবহার: ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে ঘুম আসতে দেরি হয়। বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত আলো ও উত্তেজক কনটেন্ট ঘুমের প্রস্তুতিতে বাধা দিতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে কিছু সময় পর্দা থেকে দূরে থাকা এবং বই পড়া বা শান্ত কোনো কাজে সময় কাটানো ভালো।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে ৫ পর্যটক নিহত
প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো: প্রতিদিন ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার সময় পরিবর্তন হলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা দেহঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। এতে ঘুমের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি দিনের বেলায় ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাই ছুটির দিনেও যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত।
দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ঘুমানো: দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। বিশেষ করে বিকেলের শেষ দিকে ঘুমালে রাতের ঘুমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই অভ্যাস বাদ দিতে হবে।
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ঘুমের মান ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং ব্যায়াম না করার অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী হাঁটা বা অন্যান্য মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম নিয়মিত করার চেষ্টা করা উচিত।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ঘুমের সময় যথেষ্ট হলেও নিয়মিত ক্লান্তি থাকলে শুধু জীবনযাপনের অভ্যাসকে দায়ী করা ঠিক নয়। বিশেষ করে জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে আসা কিংবা ক্লান্তির সঙ্গে অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেই ঘুমের মান ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব।