প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
রাত অনেক হয়েছে, অথচ চোখে ঘুম নেই। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেও ঘুম আসছে না। কখনো কাজের চাপ, মানসিক দুশ্চিন্তা কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুমাতে সমস্যা হয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, মেজাজ খিটখিটে হওয়াসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমের সমস্যা দূর করতে ওষুধের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থাভেদে ঘুমের চাহিদা আলাদা হতে পারে। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শোবার ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান
ছুটির দিনেও ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার সময় যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট রাখুন। কোনো দিন তাড়াতাড়ি ঘুমানো, আবার কোনো দিন রাত জেগে সিনেমা বা সিরিজ দেখা—এমন অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুমের আগে অন্তত ৩০ মিনিট মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও টেলিভিশন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এর পরিবর্তে বই পড়া, হালকা গান শোনা কিংবা শান্তভাবে সময় কাটাতে পারেন।
ঘুমের আগে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন
ঘুমানোর ঘরটি শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখুন। অতিরিক্ত আলো, শব্দ কিংবা গরম পরিবেশ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে কারও কারও আরাম লাগতে পারে। তবে নিমপাতা মেশানো পানিতে গোসল করলে অনিদ্রা দূর হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এটিকে ঘুমের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
রাতে চা-কফি এড়িয়ে চলুন
চা, কফি, এনার্জি ড্রিংকসহ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার পর এগুলো পান করলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। শোবার আগে ভারী খাবার খাওয়াও এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, তবে ঘুমানোর ঠিক আগে কঠোর ব্যায়াম না করাই ভালো। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলোতে কিছু সময় কাটানো ও হাঁটাহাঁটিও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
পায়ের পাতায় ঘি মালিশ কি কাজে দেয়?
আয়ুর্বেদিক চর্চায় ঘুমের আগে পায়ের পাতায় ঘি মালিশ করার কথা বলা হয়। কারও কাছে এটি আরামদায়ক মনে হতে পারে। তবে ঘি মালিশ করলে দ্রুত ঘুম আসে বা ঘুম গভীর হয়—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। ঘুমের সমস্যা কমাতে এর ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত ঘুমের সময়, আরামদায়ক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া ভালো।
ঘুমের ওষুধ নিজে থেকে খাবেন না
ঘুম না এলে নিজের ইচ্ছায় ঘুমের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং কিছু ওষুধে নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধার মতো সমস্যাও অনিদ্রার কারণ হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ঘুমের সমস্যার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিতে পারেন।
ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করেও উপকার না হলে, কয়েক মাস ধরে ঘুমের সমস্যা চললে কিংবা দিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, শরীর ও মন সুস্থ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।