চিয়া সিড © এআই সম্পাদিত ছবি
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চিয়া সিড। ছোট কালো বা সাদা এই বীজে রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ (ফাইবার), উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।
তাই অনেকেই একে সুপারফুড হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিয়া সিড কোনো অলৌকিক খাদ্য নয়; এটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
কেন উপকারী?
চিয়া সিডের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে। ফাইবার হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। এতে থাকা উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়া রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উপকার পেতে শুধু চিয়া সিড নয়, ফল, শাকসবজি, ডাল ও পূর্ণ শস্যসমৃদ্ধ সুষম খাদ্যও প্রয়োজন।
কীভাবে খাবেন?
চিয়া সিড পানিতে বা দুধে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ উপায়। এটি দই, ওটস, স্মুদি, সালাদ বা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর ডেজার্টের সঙ্গেও খাওয়া যায়। অনেকেই চিয়া পুডিং তৈরি করেও খেয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে বেশি পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়া উচিত নয়। যারা আগে কখনও এটি খাননি, তারা অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। কারণ চিয়া সিড প্রচুর পানি শোষণ করে। পর্যাপ্ত পানি ছাড়া অতিরিক্ত চিয়া সিড খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুন : পড়ার টেবিল রেখে রাজপথে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন
এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করেন, তাদের নিয়মিত চিয়া সিড খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারিতার সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব ফেলতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য যথেষ্ট। তবে এটি কোনো রোগের ওষুধ নয় এবং একে অলৌকিক সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে চিয়া সিড যুক্ত করলে এর প্রকৃত উপকার পাওয়া যায়।