ক্ষুধা, স্ট্রেস নাকি অভ্যাস—খাওয়ার ইচ্ছে আসলে নিয়ন্ত্রণ করে কোনটা?

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/ এআই

ধরুন, আপনি একটি মিটিংয়ে বসে আছেন। হঠাৎ কেউ বিস্কুট নিয়ে আসলো। কয়েকজন সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটা নিয়ে নিল, কোনোকিছু না ভেবেই খেয়ে ফেলল, কেউ একেবারেই খেয়াল করল না, আবার কেউ খেতে চাইলেও নিজেকে আটকে রাখল। একই পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতিক্রিয়া এত ভিন্ন কেন হয়? আমাদের এই খাওয়ার ইচ্ছা আসলে কীভাবে কাজ করে আর আধুনিক খাবার কি এই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে?

প্রথমেই ‘ক্ষুধা‘ এবং ‘ইচ্ছা‘-এর পার্থক্য বোঝা জরুরি। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোএন্ডোক্রিনোলজির অধ্যাপক গিলিচ ইও বলেন, ক্ষুধা হলো একটি অনুভূতি, যখন আপনি বুঝতে পারেন যে আপনার কিছু খাওয়া দরকার। আর ইচ্ছা হলো আমরা কেন খাই, তার পুরো প্রক্রিয়া যার মধ্যে ক্ষুধা, পেট ভরা অনুভূতি এবং খাবার খাওয়ার আনন্দ সবই অন্তর্ভুক্ত। এই তিনটি অনুভূতি মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও তারা একসঙ্গে কাজ করে।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে হাইপোথ্যালামাস, যা নাকের পেছনে, মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত। এটি শরীরের রক্তে শর্করা এবং লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে দেখে শরীরে শক্তির ঘাটতি আছে কি না। অন্যদিকে, পেট ভরার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের পেছনের অংশ যাকে বলা হয় হিন্ডব্রেইন। যখন পেট প্রসারিত হয়, তখন ভেগাস নার্ভের মাধ্যমে সংকেত গিয়ে জানায় যে পেট ভরে গেছে।

আর খাবার খাওয়ার আনন্দ বা রিওয়ার্ড সিস্টেম নিয়ন্ত্রিত হয় ডোপামিন দ্বারা, যা মস্তিষ্কের আরও বিস্তৃত অংশে কাজ করে এবং আমাদের আনন্দদায়ক কাজের দিকে আকৃষ্ট করে। এই তিনটি অংশ একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাই কখনো খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায় সাধারণ খাবারও খুব সুস্বাদু লাগে। আবার কখনো পেট ভরা থাকলেও চকলেট কেক খেতে ইচ্ছে করে কারণ তখন রিওয়ার্ড সিস্টেম সক্রিয় থাকে।

তাহলে বিস্কুটের ক্ষেত্রে কী ঘটে? আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই, তা নির্ভর করে সেই মুহূর্তে আমরা কতটা ক্ষুধার্ত বা পেটভরা। তবে জেনেটিক কারণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেউ খাবারকে শুধু শক্তির উৎস হিসেবে দেখে, আবার কেউ খাবার ভালোবাসে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের ইচ্ছাতে হাজারেরও বেশি জিন প্রভাব ফেলে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দৃষ্টি, গন্ধ এমনকি শব্দও আমাদের খাওয়ার ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে। 

পুষ্টিবিষয়ক স্নায়ুবিজ্ঞানী ইমোটি ফ্রে বলেন, খাবার দেখলেই বা তার গন্ধ পেলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের কার্যক্রম বেড়ে যায়, যা আমাদের খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়, এমনকি শরীরের শক্তির প্রয়োজন না থাকলেও। এই ধরনের ক্ষুধাকে বলা হয় হিডোনিক হাঙ্গার।

স্ট্রেস এই পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে। মানসিক চাপ বা ক্লান্তির সময় মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমে যায়, কিন্তু ইচ্ছে এবং রিওয়ার্ড সিস্টেম সক্রিয় থাকে। ফলে খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে কখন খাওয়া থামাতে হবে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিষয়গুলো জানে এবং অনেক সময় সেই অনুযায়ী খাবার তৈরি করে যাতে আমাদের আরও বেশি আকৃষ্ট করে। সমস্যা হলো, আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবে চর্বি বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের ক্যালোরি মোটামুটি আন্দাজ করতে পারে, কিন্তু চর্বি ও পরিশোধিত খাবারের ক্যালোরি ঠিকমতো অনুমান করতে পারে না। ফলে সহজেই আমরা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি যেমন বিস্কুট, পেস্ট্রি বা পিজ্জা।

সব মিলিয়ে, আমরা এমন এক খাদ্য পরিবেশে বাস করছি যেখানে চারপাশে প্রলোভনপূর্ণ খাবারের ছড়াছড়ি, কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক এত বেশি উদ্দীপনার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রস্তুত নয়। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো সচেতনতা। [সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান]

মেধানির্ভর-আত্মবিশ্বাসী-সৃজনশীল মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
যশোরে এসির পাইপ চুরির হিড়িক
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ইরানে ফের হামলা চালাতে চায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংক…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় গার্ডারে ধাক্কা লেগে যুবকের মৃত্যু
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
সরাসরি ভাইভা দিয়ে চাকরি আবুল খায়ের গ্রুপে, নেবে অ্যাসিস্ট্…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
মজুত নিয়ে ধোঁয়াশা, সংকট মরণব্যাধি জলাতঙ্কের টিকার
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬