অদ্ভুত স্কিনকেয়ারে আগ্রহ তরুণ প্রজন্মের, নিরাপদ নাকি ক্ষতি?

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ AM
অদ্ভুত স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড এখন বাংলাদেশেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে

অদ্ভুত স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড এখন বাংলাদেশেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে © এআই সৃষ্ট ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অদ্ভুত স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড এখন বাংলাদেশেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তরুণ প্রজন্মের বিশেষ করে নারীরা নিজেদের সুন্দর দেখাতে অদ্ভুত সব স্কিনকেয়ারের দিকে ঝুঁকছে। স্যামন মাছের শুক্রাণু থেকে তৈরি ইনজেকশন, পাখির বিষ্ঠা দিয়ে ফেসিয়াল কিংবা নিজের রক্ত ব্যবহার করে ত্বকের চিকিৎসা-এসব বিষয় শুনতে অবাক লাগলেও শহরের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ নিয়ে কৌতূহল দ্রুত বাড়ছে।

বিবিসির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ট্রেন্ডের কিছু ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকলেও অধিকাংশই এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশে এ প্রবণতা নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করছে কিনা, সে প্রশ্নও তুলছে। আসলেই কি এসব অদ্ভুত স্কিনকেয়ার নিরাপদ নাকি ডেকে আনতে পারে ঝুঁকি। 

কে-বিউটি কেয়ার: ঢাকায় আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কে-বিউটি’ সংস্কৃতির প্রভাবে ঢাকার বিভিন্ন স্কিন কেয়ার ক্লিনিকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে বায়োস্টিমুলেশন, কোলাজেন থেরাপি ও মাইক্রোনিডলিং এর মতো চিকিৎসা এখন অনেক ক্লিনিকে চালু হয়েছে। যদিও স্যামন ডিএনএ ইনজেকশন এখনো সীমিত, তবে অনলাইন জগতে এর প্রচারণা ব্যাপক।

এটি কতটা বৈজ্ঞানিক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ট্রেন্ডের পেছনে বাস্তব বিজ্ঞান রয়েছে- স্যামন ডিএনএ ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে, আবার পাখির বিষ্ঠায় থাকা ইউরিয়া ত্বক নরম করে এবং পিআরপি থেরাপি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে পারে। তবে এসব গবেষণা এখনো সীমিত এবং সব মানুষের ক্ষেত্রে সমান কার্যকর নয়।

ভাইরাল ট্রেন্ডের ঝুঁকি
বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনেকেই যাচাই না করেই এসব ট্রেন্ড অনুসরণ করছেন। এতে করে ত্বকে সংক্রমণ, অ্যালার্জি কিংবা স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত দেশে এসব উপাদান ল্যাবে বিশুদ্ধ করা হলেও দেশে সে মান সব সময় নিশ্চিত হয় না।

ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়াল: কিছুটা গ্রহণযোগ্য
পিআরপি বা ‘ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়াল’ বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রচলিত। এই পদ্ধতিতে- নিজের রক্ত ব্যবহার করা হয়; প্লাজমা আলাদা করে ত্বকে প্রয়োগ করা হয়; সঠিকভাবে করলে এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবে ফলাফল ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই সবার জন্য এটি নিরাপদ নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব
ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মাধ্যমে স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে অনেকেই ইনফ্লুয়েন্সার দেখে দ্রুত ফলের আশায় কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

আরও পড়ুন: নীতিমালার আওতায় আসছে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রেন্ড দেখে নয়, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। অজানা উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক হতে পারে।

কোনগুলো নিরাপদ?
১. প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার

২. ত্বক পরিষ্কার রাখা

৩. পর্যাপ্ত পানি পান

৪. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নতুন কিছু ব্যবহার না করা

৫. অ্যালোভেরা, হলুদ, মধু ইত্যাদি সঠিক নিয়মে গ্রহণ করা। (সূত্র: বিবিসি)

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের স্থগিত হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
ববি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান নির্মাণ, দাবি প্রক্…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, প্র…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড় থেকে জাতীয় মঞ্চে মাসিনু মারমা, জু…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার আসামির পরিচয় জানাল পুলিশ
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬