শীতে গোসল © সংগৃহীত
শীতে গোসল নিয়ে চিন্তা সবার। এ ক্ষেত্রে বড়রা তো বটেই, শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন বাবা-মা। ঠান্ডা পানি, ঠান্ডা বাতাস—সব মিলিয়ে অনেকেই মনে করেন, শীতে গোসল করালে বাচ্চার সর্দি-কাশি বা জ্বর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে কেউ কেউ নিয়মিত গোসল বন্ধই করে দেন। শীতের সময়ে তাপমাত্রা যতই নামুক, শিশুর গোসল বাদ না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডার সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কমে। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়। ছোটদের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর। এই সময়ে তাদের নরম চামড়াতেও টান ধরে। তাই ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে গোসর করানো জরুরি। শিশুর যদি খুব বেশি ঠান্ডা লাগার বা অ্যালার্জি জনিত সমস্যা থাকে, তা হলে হালকা গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। বিষয়টি শিশুদের পাশাপাশি বড়দের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।
কখন গোসল করানো ভালো
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শীতকালে শিশুকে গোসল করানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে। এ সময় আবহাওয়ায় তুলনামূলক উষ্ণতা থাকে। তবে অনেক জায়গায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি তাই রোদ উঠলে অর্থাৎ ১২ থেকে ২ টার মধ্যে গোসল করাতে হবে।
পানির তাপমাত্রা কেমন হবে
শীতে কখনোই খুব ঠান্ডা কিংবা খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। হালকা কুসুম গরম পানি শিশুর জন্য নিরাপদ। পানির তাপমাত্রা এমন হওয়া দরকার, যাতে তা শরীরের স্বাভাবিক উষ্ণতার কাছাকাছি থাকে।
গোসলের সময় কতক্ষণ
শীতকালে শিশুর গোসলের সময় কমিয়ে আনতে হবে। সাধারণত ৫ থেকে ৭ মিনিটই যথেষ্ট। বেশি সময় পানিতে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে, যা ঠান্ডা লাগার কারণ হতে পারে।
গোসলের পর করণীয়
গোসল শেষে শিশুর শরীর ভালোভাবে মুছে নিতে হবে, বিশেষ করে গলা, পুরো হাত ও পায়ের আঙুলের ফাঁকে যেন পানি না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এরপর দ্রুত উষ্ণ কাপড় পরিয়ে দিতে হবে। শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় শিশুদের জন্য উপযোগী ময়েশ্চারাইজার বা তেল ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কতদিন পরপর গোসল করানো উচিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন গোসল করাতে পারলে ভালো তবে বাধ্যতামূলক নয়। শিশুর বয়স, ঘাম বা ময়লা হওয়ার মাত্রা অনুযায়ী দুই থেকে তিন দিন পরপর গোসল করানো যেতে পারে। তবে মুখ, হাত-পা ও শরীরের ভাঁজগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার রাখতে হবে।