যে কারণে আপনি লিচু খাবেন

লিচু
লিচু  © ফাইল ছবি

চলছে মধুমাস জৈষ্ঠ্য। গ্রীষ্মকালের অন্যতম এ মাসে দেশে জন্মায় নানা পুষ্টিকর ফল। যার মধ্যে অন্যতম পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এক ফল লিচু। আকারে ছোট হলেও এতে ভিটামিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা পুষ্টি উপাদান থাকায় বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে লিচু। 

লিচু উৎপাদনকারী প্রধান দেশ চীন। কারণ এটা দক্ষিণ-পূর্ব চীনের কুয়াংতুং ও ফুচিয়েন প্রদেশের গ্রীষ্মকালীন স্থানীয় ফল বলে পরিচিত। ১১শ শতক থেকে চীনে লিচু চাষাবাদের কথা জানা যায়। তবে চীন ছাড়াও ভারতীয় উপমহাদেশ, মাদাগাস্কার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে লিচু চাষাবাদ হয়। লালচে বর্ণের গোলাকার এ ফল সুমিষ্ট, রসালো ও পুষ্টিকর।

জানা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) লিচুতে রয়েছে, ক্যালরি ৬৬, শর্করা ১৬.৫৩ গ্রাম, চিনি ১৫.২৩ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১.৩ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ০.৪৪ গ্রাম, প্রোটিন ০.৮৩ গ্রাম, ০.০১১ মি. গ্রাম রিবোফ্লাভিন (বি২), ০.০৬৫ মি. গ্রাম নায়াসিন (বি৩), ০.৬০৩ মি. গ্রাম ভিটামিন (বি৬), ০.১ মি. গ্রাম ফোলেট (বি৯) ১৪মি.গ্রাম ভিটামিন সি, ৭১.৫ মি. গ্রাম খনিজ, ৫ মি. গ্রাম লৌহ, ০.১৩ মি. গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ১০ মি. গ্রাম ম্যাঙ্গানিজ, ০.০৫৫ মি. গ্রাম ফসফরাস, ৩১ মি. গ্রাম পটাসিয়াম ১৭১ মি. গ্রাম সোডিয়াম, ১ মি. গ্রাম জিংক ও পানি ৮১.৮ গ্রাম। 

গবেষণা বলছে, লিচুতে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দেহের পুষ্টি সরবরাহ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ন্যাশনাল ইনিস্টিউট অফ হেলথ এর দেয়া তথ্যমতে লিচুর বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা জানা যায়।

আরও পড়ুন: ইসলামে তাকওয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

তবে চলুন জেনে নেয়া যাক সব উপকারিতার কথা-

★ লিচু ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উৎস। কারণ এক আউন্স তাজা লিচুতে দৈহিক মূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশ ভিটামিন সি থাকে। যা দেহের সুস্থ হাড় শক্তিশালী করার পাশাপাশি রক্তনালী এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

★ তাজা লিচু নিয়াসিন, ভিটামিন বি-৬ ও ফোলেটের মতো কিছু ভিটামিন সরবরাহ করে। নিয়াসিন শরীরে এইচডিএল (ভাল) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। অপরদিকে ভিটামিন বি-৬ স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ্য রাখার পাশাপাশি দেহে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বি বিপাকে সহায়তা করে। এমনকি এতে থাকা ফোলেট গর্ভবতী ও সন্তান জন্মদানের বয়সের মহিলাদের জন্য নিউরাল টিউব ত্রুটিগুলি প্রতিরোধ করে।
 
★ লিচু ওজন কমাতে সহায়তা করে। কেননা লিচুতে থাকা পলিফেনল দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর পাশাপাশি পেটের পরিধি কমাতে সহায়তা করে। 

★ লিচু ফাইবারের একটি ভালো উৎস। নিয়মিত এ ফল খেলে এতে থাকা ফাইবার বাল্ক মল ও মলত্যাগ স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে। এমনকি লিচু সামগ্রিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে থাকে।  

★ লিচু থাকা পুষ্টি উপাদান দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এমনকি ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

★ লিচুতে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে কোষকে রক্ষা করে। এমনকি লিচুতে থাকা পলিফেনল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভার এবং অগ্ন্যাশয়কে সুস্থ রাখে। ফলে এসব অন্ত্র শক্তিশালী করতে লিচু ঐতিহ্যগতভাবে চীনে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

★ লিচু হাড়ের সুস্থতায় বেশ কার্যকরী। কারণ লিচুতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ এবং কপার হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। এমনকি হাড়ের ভঙ্গুরতা কমিয়ে অস্টিওপোরোসিস ও ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি কমায়।

★ লিচু কিডনি রোগের ঝুঁকি কমায়। কারণ এতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও পটাসিয়াম থাকে। যা কিডনিতে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে। এমনকি ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্বও কমিয়ে কিডনি রোগের ঝুঁকি কমায়। 

 


সর্বশেষ সংবাদ