১৯৪৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টিকা নেওয়ার জন্য জনসাধারণের ভিড় © ফাইল ফটো
এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিলেছে টিকা। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে তা প্রয়োগও শুরু হয়েছে। টিকা আসার ফলে করোনায় বিশ্বজুড়ে স্থবিরতা নেমে এলেও আশার আলো দেখা দিতে শুরু করেছে।
তবে সহসাই করোনা দূরীভূত হচ্ছে তা ভাবার সুযোগ একদমই নেই। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে ব্লুমবার্গ।
পশ্চিমা বিশ্বে সবে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। সারা দুনিয়ার প্রায় ৮০০ কোটি মানুষকে দিতে হবে। এই কর্ম সহজসাধ্য নয়। পৃথিবী থেকে গুটি বসন্ত দূর করা গেছে। নির্মূলের পথে রয়েছে পোলিও। এ অবস্থানে আসতে সময় লেগেছে কয়েক দশক। এখনও আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে পোলিও রয়ে গেছে। টিকাদান কার্যক্রমের পূর্বঅভিজ্ঞতা বলছে, সহসাই নির্মূল হতে যাচ্ছে না করোনাভাইরাস।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক এবং আটলান্টার ইমোরি ভ্যাকসিন সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ওয়াল্টার ওরেনস্টেইন বলেন, এটা এতটাই সংক্রামক। সারা দুনিয়া থেকে এই ভাইরাস সমূলে দূর হলে আমি সত্যিই অবাক হবো।’
বিশ্বব্যাপী করোনার টিকা নিশ্চিত করতে ’কোভ্যাক্স’ নামক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পৃথিবীর উচ্চ আয়ের ৬৪টি দেশ অর্থায়ন করছে। মূলত অভাবগ্রস্ত দেশগুলো যাতে টিকা পায় সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিকা পেতে এই কোভ্যাক্স এরই মধ্যে টিকা প্রস্ততকারী কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসন ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তি করেছে। তবে তাদের টিকা বাজারে আসেনি। এতে বেশ সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
এ উদ্যোগের অন্যতম অর্থায়নকারী দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক সুজম্যান বলছেন, ‘পৃথিবীজুড়ে সমতার ভিত্তিতে এই টিকা বন্টন সত্যি সত্যিই খুব দুরুহ ব্যাপার। এর পেছনে নৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় কারেই রয়েছে।’
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি নোভারটিস-এর সাবেক টিকা কর্মকর্তা ক্লাউস স্টোর বলছেন, ‘ধারণাটি একেবারেই পরিস্কার, ‘যে এই ভাইরাস কখনোই নির্মূল হবে না। কারণ, সমাজে সব সময়ই সংক্রমণ সন্দেহজনক লোকজন থাকবেই।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) শীর্ষ পদে থেকে মহামারি নিয়ে কাজ করেছেন ক্লাউস স্টোর।