বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেন ড. বিজন কুমার

বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেন ড. বিজন কুমার
  © ফাইল ফটো

নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুরে চলে গেলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা কিট উদ্ভাবন দলের প্রধান ড. বিজন কুমার শীল। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বিজ্ঞানী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে অবস্থান করছি। আমি সিঙ্গাপুরে চলে যাচ্ছি।’

এর আগে গতকাল কষ্ট নিয়েই নিজের জন্মভূমি ছেড়ে সিঙ্গাপুর চলে যাওয়ার কথা জানান গণস্বাস্থ্য ড. বিজন কুমার শীল। তবে একেবারে নাকি সাময়িকভাবে গেলেন সে ব্যাপারে কিছু জানাননি তিনি। যাওয়ার আগে আবারো বাংলাদেশে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বিজ্ঞানী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ড. বিজন কুমার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সব সময়ই আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। এবার মনটা খুব বিষণ্ন, খুব কষ্ট অনুভব করছি। ওয়ার্ক পারমিট হবে না, এমন সিদ্ধান্তও জানিয়ে দেওয়া হয়নি। কষ্টের কারণ হয়তো মান সম্পন্ন কিট উদ্ভাবন করেও অনুমোদন পেলাম না।’

গণবিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানায়, ড. বিজনের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা হয়েছে। তার পদের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিতে বলায় সেটা সম্পন্ন হয়েছে। ট্যাক্সসহ কাগজ জমা দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ক পারমিট পেলে বাইরে থেকে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এজন্য বাধ্য হয়েই তাকে বাংলাদেশ ছাড়তে হচ্ছে।

ড. বিজন বলেন, ‘ধারণা করছি, এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। কাগজপত্র অনুযায়ী আমি সিঙ্গাপুরের নাগরিক। কিন্তু, বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। সে দেশের ওয়ার্ক পারমিট পাব না, তা কল্পনাও করতে চাই না। আমি জন্মভূমিতেই কাজ করতে চাই। আমার অর্থ-সম্পদের দরকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ক পারমিট পেলে কাগজপত্র সিঙ্গাপুরে দূতাবাসে জমা দিতে হবে। এমপ্লয়মেন্ট ভিসা দেবে তারা। তখন হয়তো ফিরে আসব প্রিয় জন্মভূমিতে। কিট যে পর্যায়ে রেখে গেলাম তা অনুমোদন পেলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উৎপাদনে যেতে পারবে।’

স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তার পরিবার সিঙ্গাপুরে থাকেন। গত সাত মাস গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবে গবেষণা করেছেন। এসময় সিঙ্গাপুরে যেতে পারেননি তিনি। তবে ড. বিজন বিশ্বাস করেন তার উদ্ভাবিত কিট সরকারের অনুমোদন পাবে। এসব কথা বলার সময় গলা ভারী হয়ে আসছিল তার।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ