© গার্ডিয়ান
করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে দুর্গতদের জন্য তহবিল সংগ্রহে নেমেছেন শতবর্ষী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দবিরুল ইসলাম চৌধুরী। তার এ উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে। তহবিল সংগ্রহে লন্ডনের উপকণ্ঠে সেন্ট আলবান্স শহরে প্রতিদিন নিজ বাড়ির বাগানে ৮০ মিটার পথ হাঁটছেন তিনি ১০০ বার করে।
গত ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। রমজানজুড়ে এই হাঁটা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এতে মাত্র ১০ দিনে দবিরুল ইসলামের তহিবলে জমা হয়েছে ৭৮ হাজার পাউন্ডেরও বেশি অর্থ।শুরুতে মাত্র এক হাজার পাউন্ড সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি।
করোনা সংকটে বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান শতবর্ষী দবিরুল। এর মধ্যে টেলিভিশনে আরেক শতবর্ষী ব্রিটিশ সেনা টম মুরের হেঁটে ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের জন্য ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহের খবরে অনুপ্রাণিত হন তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যোদ্ধা টম মুর শততম জন্মদিনে বাড়ির সামনে ১০০ চক্কর হেঁটে তহবিল সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেন। ব্রাউফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা মুরের এই আহবানে সাড়া দিয়ে তহবিলে অর্থ দেন বিভিন্ন দেশের মানুষ।
সিলেটের দিরাই থানার কুলঞ্জ গ্রামে ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া দবিরুল ব্রিটেনে পাড়ি জমান ১৯৫৭ সালে। লেখাপড়ার পর চাকরির পাশাপাশি কমিউনিটির কাজেও জড়ান তিনি। তার স্ত্রী খালেদা দবীর চৌধুরী আওয়ামী লীগ যুক্তরাজ্য শাখার নেত্রী।
দবিরুল ইসলাম চৌধুরীকে অনেকে চেনেন কবি দবিরুল হিসাবে। তিনি সভা-সমাবেশে গেলে স্বরচিত কবিতা পড়ে শোনান। তার লেখা কবিতার বইও প্রকাশ হয়েছে।
ক্যাপ্টেন মুরের তৎপরতায় অনুপ্রাণিত হয়ে ১০০ বছর বয়সে হেঁটে তহবিল সংগ্রহের চ্যালেঞ্জে নেমে পড়েন দবিরুল ইসলাম চৌধুরী। তহবিলে প্রথমে ১০০ পাউন্ড দান করেন একজন। পরে তাকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন ছেলে ব্যবসায়ী আতিক চৌধুরী ৷ এরপর জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এস টিভির প্রতিষ্ঠাতা মাহি ফেরদৌস জলিলও এগিয়ে আসেন।
বিবিসি টেলিভিশন ও গার্ডিয়ানসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দবিরুল ইসলামের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে। একশ পাউন্ড দিয়ে শুরু হলেও ১০ দিনে গিয়ে তহবিল দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার পাউন্ডে। শেষ পর্যন্ত লাখ পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন ছেলে আতিক চৌধুরী।
সংগৃহীত সব অর্থ রামাদান ফ্যামিলি কমিটমেন্ট (আরএফসি) নামের একটি চ্যারিটিকে দান করা হবে। ২৬টি সংগঠনকে এই অর্থ সমানভাবে ভাগ করে দেবে চ্যারিটি। তা দিয়ে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে দুর্গতদের সহায়তা করা হবে।
দবিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছে তাতে অভিভূত তিনি। উৎসাহও আরও বেড়ে গেছে, রমজানের শেষ পর্যন্ত হাঁটা অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং দুঃসময়ে কিছু করতে পারছি, এটা ভাবলেই শক্তি বেড়ে যাচ্ছে।’ এসময় যারা অর্থ দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান দবিরুল ইসলাম।