মডেল: প্রত্যয় ও কাব্য © প্রতীকী ছবি
'আলফা পুরুষ’ কথাটি শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, শক্তিশালী, এবং নেতৃত্বদানকারী পুরুষের ছবি। এমন চরিত্র আমরা দেখতে পাই বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায়, যেমন বলিউডের ‘পুষ্পা’, ‘কবির সিং’, ‘অ্যানিমেল’, কিংবা ঢালিউডের ‘তুফান’।
সিনেমা এবং সমাজে যতই আলফা পুরুষদের প্রশংসা করা হোক না কেন, সঙ্গী হিসেবে এসব পুরুষ খুব একটা সুবিধার নন। এমনটিই উঠে এসেছে একাধিক গবেষণায়। এসব গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলফা পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীর সুখী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
সঙ্গী হিসেবে আলফা পুরুষেরা কেন ভালো নন?
আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব: আলফা পুরুষেরা সাধারণত নিজেদের প্রয়োজন, চাহিদা ও লক্ষ্যকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাদের কাছে সম্পর্কের চেয়ে নিজস্ব সফলতা বা পেশাগত জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে, তারা সঙ্গীর অনুভূতি এবং চাহিদাকে উপেক্ষা করতে পারেন।
নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা: আলফা পুরুষরা সাধারণত সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করেন। তারা চান যে সঙ্গী তাদের মতো ভাবুক, চলুক এবং তাদের ইচ্ছানুযায়ী নিজেকে পরিবর্তন করুক। এটি সম্পর্কের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সঙ্গীকে স্বাধীনভাবে থাকতে বাধা দেয়।
নার্সিসিজম বা আত্মগর্ব: আলফা পুরুষদের মধ্যে সাধারণত এক ধরনের আত্মগর্ব বা নার্সিসিজম থাকে। সঙ্গীকে আলাদা একটা সত্তা না ভেবে নিজেদের বৃহত্তর সত্তার একটা অংশ ভাবতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সঙ্গীর কাছ থেকে যা কিছু যেভাবে প্রত্যাশা করেন, নিজে সঙ্গীকে সেসব সেভাবে দিতে রাজি থাকেন না। ফলে সেটা একটা অসম, অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কে পরিণত হয়।
আবেগের অভাব: আলফা পুরুষরা আবেগের ক্ষেত্রে অনেক সময় অপ্রতুল হতে পারেন। তারা সঙ্গীর কাছ থেকে আবেগীয় সমর্থন প্রত্যাশা করলেও, নিজে সঙ্গীকে সেই ধরনের সহানুভূতি দিতে ব্যর্থ হন। এর ফলে, সঙ্গী আবেগের দিক থেকে অবহেলিত এবং একাকী হয়ে পড়েন।
প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব: আলফা পুরুষেরা অনেক সময় সম্পর্ককে একটি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখতে পারেন। তারা সম্পর্কের মধ্যে নিজেদেরকে সেরা প্রমাণ করতে চান, যা সঙ্গীকে কম গুরুত্ব দিতে এবং সম্পর্কের মধ্যে সমতা বা পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দেয়।
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী: আলফা পুরুষেরা সাধারণত অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী হয়। এটি কখনো কখনো অহংকারের পর্যায়ে চলে যায়। তারা নিজেদেরকে অপ্রতিরোধ্য মনে করেন, যা সঙ্গীর জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তারা প্রত্যাশা করেন সঙ্গী তাদের সিদ্ধান্ত এবং মতামত মেনে চলবে, যা সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে।