খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নে খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার ক্যাম্পেইন 

২৭ জুলাই ২০১৮, ১২:৩৩ PM
ঢাকার জাতীয় জাদুঘর প্রধান মিলনায়তনে উপস্থিত বিশিষ্টজন

ঢাকার জাতীয় জাদুঘর প্রধান মিলনায়তনে উপস্থিত বিশিষ্টজন

বাংলাদেশে এখন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। দেশের অতিদরিদ্র ১২.৯ শতাংশসহ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ৪ কোটি মানুষ দৈনিক ২ হাজার ১২২ কিলোক্যালরি বা প্রয়োজনীয় খাদ্য পায় না। সমাজে আয়-বৈষম্যের ব্যাপকতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

সবার জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চিত করতে  বুধবার জাতীয় জাদুঘর প্রধান মিলনায়তনে ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ আয়োজিত দেশব্যাপী জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৮ জুড়ে খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, যাদের কাছে উন্নয়ন এখনও পৌঁছায়নি, যারা খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রভৃতি অধিকার থেকে বঞ্চিত তাদের জন্যই আমরা খাদ্য অধিকার আইন চাই। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন। খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ইতিমধ্যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী বরাবর মূল বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছে। তিনিও তাঁর বক্তব্যে এর সাথে একমত হয়েছেন। ফলে আমরা আশাবাদী একটি জনবান্ধব আইন হবে এবং তার বাস্তবায়নে আমাদেরকেই সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে

ক্যাম্পেইনের প্রেক্ষাপট আলোচনা ও কর্মসূচি উত্থাপন করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী। কর্মসূচি উপস্থাপনকালে মহসিন আলী দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ও লক্ষ্য, খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের চিত্র, লক্ষ্য অর্জনে করণীয়, ‘খাদ্য অধিকার’-বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের ভূমিকা, ক্যাম্পেইনের প্রধান প্রধান কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে শীর্ষ ১০ ভাগ ধনী পরিবারের আয় মোট জাতীয় আয়ের ৩৮ শতাংশ এবংনিম্নে অবস্থানকারী ১০ ভাগ অতি দরিদ্রের আয় মোট জাতীয় আয়ের ১ শতাংশ।

২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ, ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে হলে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতিদরিদ্র ও দরিদ্র ৪ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ দাবি প্রতিষ্ঠায় স্বাক্ষর প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সরকার অচিরেই ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়ে অঙ্গীকার প্রদান করবেন।

এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি যে ক্যাম্পেইন কর্মসূচি তুলে ধরেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: দেশব্যাপী ১০০০-এর অধিক খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার ক্যাম্পেইন টিম গঠন;  খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার ক্যাম্পেইন টিম-এর উদ্যোগে স্বাক্ষর সংগ্রহ;  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ২৫ লক্ষ মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান; মিডিয়া ক্যাম্পেইন;  সকল জেলায় এবং ঢাকায় খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার যুব কনভেনশন;  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বিতর্ক প্রতিযোগিতা;  রাজনৈতিক দলের সাথে জাতীয় সংলাপ, মতবিনিময় ও লবিং;  সংসদীয় আসনভিত্তিক ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে সংলাপ প্রভৃতি।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করীম, ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, একশন এইডের দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবীর, আইসিসিও ইন্টারন্যাশনালের দেশীয় প্রতিনিধি টেসা স্কেমেলজার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

নুরের আসনে বিলুপ্ত দুই উপজেলায় বিএনপির নতুন কমিটি
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বরগুনার দুই আসনেই জয়ের আভাস বিএনপির
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শাবিপ্রবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি শুরু
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তাহেরীর অফিসে প্রশাসনের তালা
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাবে: মহিউদ্দিন খান
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬