সরকারি চাকরিতে বাড়ছে মৌখিকের নম্বর

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ AM , আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ AM
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় © টিডিসি সম্পাদিত

সরকারি চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১-২০তম গ্রেড) পদে নিয়োগের পরীক্ষায় লিখিতের নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিধিমালার খসড়ায় গ্রেডভেদে মৌখিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে অসদুপায় ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌখিকের নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের সুযোগ বাড়তে পারে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমান বিধান অনুযায়ী, কারিগরি পদ ছাড়া প্রশাসনের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় ৭০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ শতাংশ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ মানবণ্টনের ভিত্তিতেই এসব পদে নিয়োগ হয়ে আসছে। প্রশাসনে এ স্তরে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৪৩টি।

তবে নতুন বিধিমালায় ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১-১২তম, ১৩-১৬তম এবং ১৭-২০তম গ্রেড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, ১১-১২তম গ্রেডের কোনো পদে সরাসরি নিয়োগের পরীক্ষায় মোট ১৫০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় থাকবে ৫০ নম্বর। বাকি ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ২৫, ইংরেজিতে ২৫, গণিতে ২৫ এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর থাকবে।

১৩-১৬তম গ্রেডের ক্ষেত্রে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় ৬০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞানে ১৫ নম্বর করে থাকবে।

অন্যদিকে, ১৭-২০তম গ্রেডের পদে মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ২৫ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর থাকবে। লিখিত পরীক্ষার ২৫ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ৫, গণিতে ৫ এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞানে ৫ নম্বর রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কারিগরি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিমালায় কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাকে ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও পাস করতে হবে। লিখিত ও ব্যবহারিক দুই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই তিনি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে তাকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে না।

তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব বা অন্য কোনো বাহিনী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাভুক্ত কোনো পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

আরও দেখুন: মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ

নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কারণ ব্যাখ্যা করে সচিব কমিটির জন্য পাঠানো সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও এদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমে কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী নিজে অংশগ্রহণ না করে নানারূপ অসদুপায় (প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার ইত্যাদি) অবলম্বন করে চাকরি লাভের চেষ্টা করছেন। ফলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি লাভের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রক্সি পরীক্ষার্থী ও অন্যান্য অসদুপায় ঠেকানোর যুক্তি দেওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগেও বিসিএসের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ড. সা’দত হুসাইন পিএসসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তা আবার ২০০ নম্বরে উন্নীত করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়। বর্তমানে সেটিই কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০ থেকে কমিয়ে ১০ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মো. ফিরোজ মিয়া গণমাধ্যমে বলেন, ‘পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে সাধারণত মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হয়ে থাকে। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বেশি মানেই দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া। এতে অদক্ষরা সরকারি চাকরিতে ঢুকবে।’

অন্যদিকে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়; তাও নিশ্চিত করা হবে।’

বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনে ১১২ পদে বড় নিয়োগ
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নামেই ‘ক্যাশলেস ক্যাম্পাস’ রাবি, কমেনি ভেগান্তি
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথমবারের মতো মোবাইল ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা, কোন …
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের ভাতা দেবে সরকার
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, নিষিদ্ধ মসজিদ-মন্দি…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যশোরে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9