নবম জাতীয় পে স্কেল © ফাইল ছবি
নবম জাতীয় পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা বা ভাতা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরব তারা। যদিও সচিব কমিটির প্রতিবেদনে পে স্কেল দিলে এ সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল।
জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫ এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন বিষয়ক সচিব কমিটির প্রতিবেদনে বিশেষ সুবিধা বাতিল বিষয়ে বলা হয়, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর পর দীর্ঘদিন যাবত নতুন বেতনস্কেল ঘোষিত না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের সুবিধার্থে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হিসেবে এবং পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে গ্রেডভিত্তিক ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, সচিব কমিটি নতুন বেতনস্কেল জারির সাথে সাথে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বাতিল করার সুপারিশ করছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের পর হতে জাতীয় বেতনস্কেল জারি হওয়া পর্যন্ত সময়ে বিশেষ সুবিধা বাবদ আহরিত অর্থ বেতন বাবদ প্রাপ্ত বকেয়ার সাথে সমন্বয় করার সুপারিশ করা হয়েছে।
দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। তবে বেতন বাড়ার সুখবর মিললেও পুরো সুবিধা একসঙ্গে হাতে পাবেন না চাকরিজীবীরা।
নতুন পে স্কেল দুই অর্থবছরে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতন বৃদ্ধির ঘোষণায় স্বস্তি এলেও কাঙ্ক্ষিত পূর্ণ সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুটা সময়। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে। এ কারণে পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা বহাল রাখার দাবি তুলেছেন তারা।
আরও খবর: অবসর ভাতা না পাওয়া শিক্ষকদের যেসব কাগজপত্র পাঠাতে হবে
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ১ থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০তম গ্রেডে ১১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নতুন স্কেলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়া হবে না। তিন ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে। পরবর্তী দুই ধাপে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।