সীমান্তের ১০৮ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা বিজিবির

২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ PM , আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ PM
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ © সংগৃহীত

জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রবিবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তে ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবিকে অত্যাধুনিক মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনেই

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের মূল বিচার তৎকালীন সময়ে সামরিক আদালতে সম্পন্ন হয়েছিল। সম্প্রতি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের পর বর্তমান সেনা আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠনের মাধ্যমে আইনানুগভাবে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। একই অপরাধে কাউকে সিভিল আইন ও সেনা আইন—দুই পৃথক আইনে বিচার করার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মিয়ানমার সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা

মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী, আরাকান আর্মি, আরএসও ও আরসাসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ওপার থেকে গোলাগুলি, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং মিয়ানমার সীমান্তের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সীমান্তকে আরও নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা জরুরি।

পুশ-ইনের অভিযোগ নাকচ

বাংলাদেশে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশ-ইনের অভিযোগ নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ধরনের সব প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়গুলো পরিচালনা করে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, যদি বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাযথ তালিকা পাঠানো হয়, তবে জাতীয়তা যাচাই শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।
বিজিবির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

বিজিবির জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বাহিনীর বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর টিটিদের, প্রতিবাদে রেললাইন অ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় মিয়ানমারের তিন সেনা ও পুলিশ সদস্য…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
উজানের ঢলে ভেঙেছে সড়ক, ভেসেছে বিদ্যালয়
  • ২১ জুলাই ২০২৬
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬