মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর © সংগৃহীত
তরুণ প্রজন্মকে শুধু আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবল খেলার সমর্থনে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালি আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের লড়াই নিয়ে মেতে থাকলে লাভ হবে না। তাতে পেটে ভাত আসবে না। আসল কাজ হলো নিজেদের ও অন্য মানুষের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা। নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাবন ও ও সৃজনশীলতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ভালো ব্যবসার দিকে নজর দিতে হবে, যেন কাউকে পরিবারের ওপর বোঝা হতে না হয় কিংবা জমি বিক্রি করে কর্মসংস্থান খুঁজতে না হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানী চুনিহাড়ী গ্রামে ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশিয় উদ্ভাবনকে কৃষির উন্নয়নে কাজে লাগাতে উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর তৈরি ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশিয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্ভাবন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তি চালিত এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সলেমান আমাদের দেশের গর্ব। তরুণ প্রজন্মের জন্য সলেমান আলী এক বড় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। নতুন নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হলে দেশের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।
এই উদ্ভাবনকে জাতীয় অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে যুগান্তকারী এ কাজের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের শুরুতে মন্ত্রী নিজে সোলার সেচপাম্পের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় নিজের অনুভূতি ও লক্ষ্যের কথা জানিয়ে উদ্ভাবক মো. সলেমান আলী বলেন, বিদ্যুৎ ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।