বাড়ছে মন্ত্রিসভার আকার ,ঈদের পর আসছে বড় রদবদল

০৭ মে ২০২৬, ০১:৩৮ AM
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভার কলেবর আরও বাড়ছে। একই সঙ্গে কয়েকটি দপ্তরে রদবদল ও নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। মূলত জনসেবা ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে ঈদুল আজহার পর এবং বাজেট অধিবেশন শেষেই এই সম্প্রসারণ হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হচ্ছে, যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা এবং একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মাত্র দপ্তরে সীমাবদ্ধ রাখা।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন পদক্ষেপে কয়েকজন উপমন্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসন থেকে একজন সদস্যকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন্নবী খান সোহেল এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের নাম শোনা যাচ্ছে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে নিযুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে অর্থ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কাঁধে থাকায় কাজের গতি ধীর হচ্ছে। এই চাপ সামলাতে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো প্রধানমন্ত্রীর একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। ২০০১ সালেও বিএনপি সরকারের সময় প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৬০ জনে উন্নীত করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও দলীয় সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই নতুন নিয়োগ ও রদবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি বলেন, ‘এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা দলের চেয়ারম্যান ও সরকার প্রধান তারেক রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন এটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরও গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই ঘোষণা আসতে পারে।

জানা গেছে, বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের সময় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংরক্ষিত এমপি সেলিমা রহমানও পেতে পারেন পূর্ণ মন্ত্রির দায়িত্ব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এর আগেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত ছিলেন। মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এখনও সরকারের বাইরে থাকা স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও আছেন একই আলোচনায়।

এখনও টেকনোক্র্যাট কোটায় ২ জনকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে মন্ত্রিসভায়। আলোচনায় আছেন এমপি মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তাকে এখনও কোথাও নিযুক্ত করা হয়নি। তাকে ঘিরে বেশ আলোচনা রয়েছে। আলাল দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল হতে পারেন প্রতিমন্ত্রী। তার বাড়ি বগুড়ায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। একইভাবে আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জমান দুদু। তিনিও মনোনয়নবঞ্চিত ছিলেন।

বতমান মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বড় দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এসব মন্ত্রণালয়ে অতীতে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেখা গেছে। যেমন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

‘সরকার পারছে না, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে’—নাহিদ
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগ…
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
আজও রাজধানীর একাধিক সড়কে জলাবদ্ধতা, সতর্ক করল ট্রাফিক পুলিশ
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে চায় ইংল্যান্ড
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে আবারও বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence