স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ © সংগৃহীত
বাকস্বাধীনতার নামে দেশে-বিদেশে বসে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কুৎসা রটনাকারীদের নিয়ন্ত্রণে আইন মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে গালিগালাজের এই কলঙ্কিত ধারা বেশি দূর এগোতে দেওয়া হবে না। না হলে পিতার সাথে কন্যাকে জড়িয়ে, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী-কন্যাসহ সকলকে জড়িয়ে যেভাবে বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার নামে এক কুৎসিত ও কলঙ্কিত ধারা চলছে, তা বেশিদূর এগোতে দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কিছু আছে বিদেশে, কিছু আছে দেশে, আবার কিছু আছে ঘরে। এখানে আমরা ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’ অ্যান্ড ‘ফ্রিডম অফ প্রেস’ নিয়ে কথা বলি; এটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদেও বিবৃত আছে। তবে তা রাষ্ট্র ও জনশৃঙ্খলার বৃহত্তর স্বার্থে আরোপিত ‘রিজনেবল রেস্ট্রিকশন’ বা যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধের অধীন। সেই যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধগুলো কী হবে, তা আদালত বলতে পারেন। আমরা আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীকে বলতে পারি এ বাধানিষেধগুলো কি আমরা বিধিবদ্ধ আইনের (Enactment) আওতায় আনতে পারব না? না হলে পিতার সাথে কন্যাকে জড়িয়ে, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী-কন্যাসহ সকলকে জড়িয়ে যেভাবে বাংলাদেশে স্বাধীনতার নামে এক কুৎসিত ও কলঙ্কিত ধারা চলছে, তা বেশিদূর এগোতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাকস্বাধীনতার কথা থাকলেও তা অবারিত বা সীমাহীন নয়। বর্তমানে যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। গালিগালাজের প্রতিযোগিতায় যারা চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তাদের কঠোর বাধানিষেধের আওতায় আনতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংসদীয় রীতিনীতি মেনে জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান করাই হবে প্রকৃত রাজনীতি। আমরা অংশীজনদের সাথে আলোচনা করেই সকল সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।’