প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো দেশেই যে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য চেইন অব কমান্ড ও ডিসিপ্লিন মেনে চলা অনিবার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি। এই দুইটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা থাকলে কোনো বাহিনী প্রকৃত অর্থে সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না। শৃঙ্খলার সামান্য ঘাটতিও জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক ও সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে ‘
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই সময় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপির এই সমন্বিত কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সরকারি দপ্তর, শিল্প কলকারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদক বিরোধী কার্যকলাপে এ বাহিনী সামাজিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সিক্স জি ওয়েল্ডিংসহ বহুমাত্রিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ‘ফাস্ট রেসপোন্ডার’ হিসেবে এ বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাহিনীর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ‘স্পোর্টস কার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে, যার মধ্যে আনসার ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদও রয়েছেন। এছাড়া দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সার্বিক নিরাপত্তায় ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন।’
ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী একাডেমিতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের তাঁত ও বুনন শিল্প, মৃৎ শিল্প, গবাদি পশুর খামার এবং জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করেন।