প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © ফাইল ছবি
যশোরের নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৭ এপ্রিল তিনি যশোরের উলাশীতে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
একই দিনে তিনি যশোর ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও যশোর ঈদগাহে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন ‘সুসংবাদ!! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে আসছেন। (সম্ভাব্য তারিখ-২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং)।’
পরবর্তী সময়ে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ২৭ এপ্রিল যশোরের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালীন ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে যশোরে বিএনপির এক নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই জনসভায় তারেক রহমান ঘোষণা করেছিলেন, ‘বিএনপি আবার ক্ষমতায় যেতে পারলে উলাশী খাল পুনরায় খননসহ দেশে হাজার হাজার খাল খনন করে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। আমি নিজে সেই খাল পুনঃখনন করতে আসবো ইনশাল্লাহ।’
বাংলাদেশে প্রথম খাল খননে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাসী-যদুনাথপুর খালটি এলাকার মানুষের কাছে ‘জিয়া খাল’ নামেই বেশি পরিচিত। খালটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি। ফলে পলি জমে ভরাট হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। খালটি পুনঃখননের দাবি এলাকাবাসীর। সেই খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তারেক রহমানের পিতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে মাটি কেটে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় চার কিলোমিটার খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। সে সময় এলাকার সাধারণ মানুষ জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সেই খাল খনন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিলেন।
ধারবাহিক কার্যক্রমের পর ছয় মাস পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল উলাশী খালের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
পরবর্তী সময়ে তার এ কর্মসূচি সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই খাল খনন কর্মসূচি সে সময় কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে অভূতপূর্ব এক নজির স্থাপন করে। রাতারাতি জিয়াউর রহমান কৃষক তথা সাধারণ মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নেন।
তবে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণের পর সেই কর্মসূচি শুধু স্থগিতই হয়ে যায়নি, খালগুলো ভরাট করা হয়েছে নিষ্ঠুরভাবে অথবা প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে তা আপনাআপনিই বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু, উলাশীর মতো দেশের অনেক স্থানে এখনো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা খাল এখনো সেই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির স্মৃতি বহন করে চলেছে।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যশোর কর্মসূচির মধ্যে উলাশী খালের পুনঃখনন ছাড়াও রয়েছে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জনসভা।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানিয়েছেন, এরই মধ্যে চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে তালিকা প্রস্তুত করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।