জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির সভা © সংগৃহীত
‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিএনপি অধ্যাদেশটি বাতিলের প্রস্তাব করলে এতে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল। যদিও সরকারি দল বলছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর এ গণভোট হয়েছে।
গত বুধবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভা শেষে এমন তথ্য জানিয়েছে দুই দলের নেতারা। অন্তর্র্বতী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই কর ১১৩টি জাতীয় সংসদে পাস করাতে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। কমিটির ১৩ সদস্যের মধ্যে বিএনপির ১১ এবং তিনজন জামায়াতের।
কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল। দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশেও সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এসব নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি।
জানা গেছে, ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে একমত হতে পারেনি কমিটি। আগামী ২৯ মার্চ তাদের তৃতীয় বৈঠক হবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে বাতিল হয়ে যায়। ১৩৩টি অধ্যাদেশ গত ১৩ মার্চ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। ১২ এপ্রিলের মধ্যে এগুলো পাস হতে হবে।
আরও পড়ুন: মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রশ্ন বেচাকেনা, টাকার বিনিময়ে হতো ‘লাইভ’ সমাধান
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, গণভোট ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশেও পরিবর্তন চায় বিএনপি। বিরোধী দল বলছে, পরিবর্তন বা আলোচনার জন্য সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করতে চায় সরকারি দল। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে আগের মতো একচ্ছত্র ক্ষমতা রাখতে চায় বলে তারা মনে করছে। এটি জুলাই সনদের লঙ্ঘন বলেও অভিযোগ বিরোধী দলের।
জামায়াতের এমপি জিএম নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির আচরণে মনে হচ্ছে, গণভোট বাতিল করতে চায় তারা। গণভোটের বিধান সংবিধানে নেই বলছে তারা। গণভোট বৈধ কিনা– এ আলোচনা সংসদে হওয়া উচিত। গণভোট অধ্যাদেশ সংশোধনের নামে সংসদে উত্থাপন মানেই সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাতিল হতে দেওয়া। এর মানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাতিল করা। বিরোধী দল তা হতে দেবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কমিটির সভাপতি ও সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন অবশ্য দাবি করেছেন, তারা গণভোট বাতিল বা রাখার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেননি। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও বলেছেন, বিষয়টি এখনও আলোচনার টেবিলে আছে। এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির আজ মঙ্গলবার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘হইল টা কী! এইবার দেখি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশও বাতিল চায় সরকার। অর্থাৎ পছন্দ অনুযায়ী বিচারক নিয়োগ দেবে।’