শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক © ফাইল ছবি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ হতে পারে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন শূন্য পাস করা ২২৬টি প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৫৭টি প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের আজ বুধবার চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শূন্য পাস করা ২৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও চিঠি পাঠানো হবে।
সূত্রের তথ্য বলছে, চিঠি পাওয়া প্রধানদের সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের এসে জবাব দিতে হবে। মূলত কেন তাদের প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি সে বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষকের এমপিও সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করবে বোর্ড।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। জবাব পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের কাদের এমপিও সুবিধা বন্ধ হবে এমন প্রশ্নের জবাববে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, ‘ফেল করার জন্য কোনো একক ব্যক্তি দায়ী নয়। এজন্য পুরো প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক দোষি। ফলে এমপিও বন্ধ হলে সবারই হবে।’
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।