শিক্ষা মন্ত্রণালয় © সংগৃহীত
রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের খসড়া উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এটি অনুমোদন পায়। এ খসড়া এখন ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাত কলেজের অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পেলেও এখনই অধ্যাদেশ জারি করা সম্ভব হবে না। ভেটিং হবে। ভেটিংয়ে এর পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আসতে পারে। অধ্যাদেশ জারি হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত খসড়া অধ্যাদেশ ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ভেটিং হওয়ার অধ্যাদেশ জারির সম্ভাব্য সময় বলা যেতে পারে। আশা করছি নির্বাচনের আগেই এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি হবে।’
উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত অধ্যাদেশে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং তিনি সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, চারুকলাসহ পৃথক পৃথক ‘স্কুল’ থাকবে, যার নেতৃত্ব দেবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। ‘সংযুক্ত’ কলেজগুলোয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
কলেজগুলোয় কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।
অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়া দেশি-বিদেশি সব উপযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।